মলমাস এবং মলমাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

337

সনাতন ধর্মে তিথি নক্ষত্র বা সময় কে সর্বদাই বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়|এই তিথি নক্ষত্রর সাথে বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে তন্ত্র এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রের| আমি আগেও বহুবার বলেছি যে বিশেষ কিছু তিথিতে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করে|এই রীতি আমি মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের ক্ষেত্রেও মেনে চলি|বিগত মহালয়ার অমাবস্যায় যেমন মন্দিরে বিশেষ পূজা, হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ব্যবস্থা হয়েছিল আগামী অমাবস্যা তিথিতেও সেই রূপ ব্যবস্থা করা হবে|কিন্তু আপনারা জানেন এই মাস কে মল মাস বলা হয়, অনেক ভুল ভ্রান্তি ও সংশয় আমাদের মধ্যে থাকে এই মাস কে ঘিরে|তাই এই মাসের অন্তর নিহিত অর্থ ও তার ধার্মিক এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো|

আমরা প্রায় শুনি এটা মল মাস চলছে, এবং এই মাসে কোনো শুভ কাজ করা যায় না|আরো অনেক বিধি নিষেধের কোথাও শোনা যায়|
অনেকে মনে করেন এই মাসে জ্যোতিষ পরামর্শ নেয়া, ভাগ্য বিচার করানো বা প্রতিকার নেয়া ঠিক না|এই ধারণা সম্পূর্ণ রূপে ঠিক না|কেনো, তা জানতে গেলে আগে বুঝতে হবে কি এই মল মাস এবং এই মাস সম্পর্কে সনাতন ধর্ম শাস্ত্র কি বলছে|

পঞ্জিকা মতে আমাদের দেশে সৌর ও চন্দ্র পদ্ধতির আলাদা সন গোনার পদ্ধতি থাকলেও প্রাচীন কাল থেকেই মিশ্র রীতিতেও তার হিসেব রাখা হত| যেমন চন্দ্র পদ্ধতিতে মাসের গণনা হলেও সন গণনা হত সৌর পদ্ধতিতে| হিন্দুদের পূজা পার্বন-সহ অন্যান্য অনুষ্ঠান চাঁদের পরিবর্তনের হিসেব অনুযায়ী হয় এবং চন্দ্র পদ্ধতির হিসেবে প্রতিটি মাসই ৩০ দিনের। পূর্ণিমা থেকে পূর্ণিমা। ফলে প্রতি সৌর বছরের হিসেব থেকে কয়েকটি দিনের পার্থক্য ঘটে। তাই প্রতি তিন সৌর বছর পরে পরে দেখা যায় একটি চান্দ্রমাস বেশি হচ্ছে। তখন ওই মাসটিকে অতিরিক্ত ধরে মূল হিসেব থেকে বাদ দেওয়ার রীতি চালু হয় এবং এই অতিরিক্ত মাসকে বলা হয় অতিরিক্ত মাস বা মলমাস|এই মল মাসকে কেউ অধি মাস আবার কেউ মলিন মাস ও বলেন কারন মাসটি অতিরিক্ত এবং অপবিত্র মনে করা হতো|তবে শাস্ত্রে বিশেষ করে বৈষ্ণব শাস্ত্রে এই মাসকে বলা হয় পুরুষোত্তম মাস|

আবার এই মাসের আরো একটি ব্যাখ্যা হয়|
একই মাসে দু’টি অমবাস্যা তিথি পরলেও সেটিকে মলমাস বলা হয়|‘মল’ শব্দের প্রকৃত অর্থ অশুভ|প্রচলিত রীতি অনুসারে এই মাসকে বর্জিত হিসেবে দেখা হয় এবং হিন্দু ধর্মের কোনও পূজা বা শুভ অনুষ্ঠান যেমন বিবাহ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি হয় না। তবে শ্রাদ্ধ বা সপিণ্ডকরণ করা যায়|এখানে আরেকটি উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ মাস কখনও মলমাস হয় না|

অনেকেই ভাবেন এবছর দূর্গা পূজা কেনো এতো পিছিয়ে গেলো বা মহালয়ার এতো পরে কেনো দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে|আসলে এবছর আশ্বিন মাসে দুটি অমাবস্যা পরে যাওয়ার জন্য আশ্বিন মাস মল মাস বলে বিবেচিত হবে, তাই পূজা হবে কার্তিক মাসের প্রথম দিকে|

তবে সর্বত্র মল মাসকে অপবিত্র বলে মনে করা হয়না কিছু স্থানে ব্যতিক্রম ও আছে|নেপালের কিছু জায়গায় এই মল মাসকে পবিত্র হিসেবে দেখা হয় এবং বিশেষ কিছু উৎসব ও পালন হয় এই সময়ে|সেই উপলক্ষে সেখানে ভগবান বিষ্ণুর মৎস অবতারের পূজাও করা হয়|
শাস্ত্রমতে স্বয়ং বিষ্ণু এই মাসকে পবিত্র ও মঙ্গলময় বলেছেন এবং এই মাসকে পুরুষোত্তম মাস নামে অভিহিত করেছেন|স্বয়ং ভগবান যে মাসকে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাকে আর যাই হোক অশুভ বা অপবিত্র বলা যায় কিনা তা ভেবে দেখার বিষয়|

যার জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার নিতে চান এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের মাধ্যমে গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটিয়ে জীবনে সফল হতে চান তারা নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|আমি ছিলাম, আছি এবং থাকবো|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|