শিব মাহাত্ম্য

5

শিব মাহাত্ম্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

চৈত্র মাস কে বলা হয় শিবের মাস।আর কিছুদিন পরেই নীল কণ্ঠ রূপে পূজিত হবেন মহাদেব।
আজ আপনাদের শিবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু বিষয়ের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং অন্তর্নিহিত গুরুত্ব সম্পর্কে লিখবো।

শিবের নীলাভ শরীরের ও অন্তর্নিহিত অর্থ আছে।আকাশ অন্তহীন শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতাতথা অসীমতার প্রতীক।শিবের আরেক নাম নীলকণ্ঠ।

শিব গঙ্গাধর নামেও পরিচিত কারন শিব তার জটায় গঙ্গা কে স্থান দিয়েছেন এবং তার ভয়ংকর গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেছেন।
গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে।
যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়
তখনই পরম জ্ঞান লাভ হয়।

সাপ হচ্ছে কুলকুণ্ডলীনি শক্তির প্রতীক।আবার সর্প মানে ভয় বা আতঙ্ক। যিনি ভয় কে গলায় জড়িয়ে রাখেন তিনি ভয় যার অঙ্গের ভূষণ তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।

শিবের অঙ্গে ভষ্ম থাকে এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে। এই ভস্ম শিবের খুবই প্ৰিয়।

শিবকে চন্দ্রমৌলি ও বলা হয় কারন শিবের জটায় থাকে চন্দ্র চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।
স্বয়ং শিব এই চন্দ্র কে ধারণ করেন অর্থাৎ তিনি মন এবং মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রক।

ডমরু শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।আবার তন্ত্র শাস্ত্র মতে এই ডমরু থেকেই তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।

শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন সত্ত রজ এবং তম গুন।ত্রিশূল তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন। আবার সৃষ্টি এবং ধ্বংশ এই ত্রিশূলের মাধ্যমেই হয়।এই ত্রিশূলই তিনি দিয়েছিলেন মা দুর্গাকে অসুর নিধন করার জন্য।

শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই।চৈত্র মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।