শিব অবতার – বজ্রেশ্বর
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
চৈত্র মাস শিবের মাস। চৈত্রর অবসান এবং বৈশাখের আগমন হয় নীল পুজোর মাধ্যমে যা শিবেরই রূপ। শিবের অনেক রূপ অনেক অবতার। সেই অবতারগুলি নিয়েই এই ধারাবাহিক আলোচনা। আজকের পর্বে লিখবো শিবের বজ্রেশ্বর অবতার
বজ্রেশ্বর হলেন ভগবান শিবের একটি উগ্র যোদ্ধা অবতার, যিনি অসুরদের পরাজিত করে ধর্ম রক্ষা করেন।
পুরাকালে যখন অসুররা দেবতা দের যজ্ঞ বেদী আক্রমণ করতেন তাদের যজ্ঞ বন্ধ করে দেবতাদের ক্ষমতা খর্ব করতে তখন বজ্রেশ্বর রূপে অবতীর্ণ হয়ে শিব অসুর নিধন করে দেবতাদের রক্ষা করেন। তাদের পূজো বজায় রাখেন।
তাই এই রূপে শিব মন্দের উপর ভালোর বিজয়ের বার্তা দেন এবং সনাতন ধর্মকে শক্তিশালী করেন।
এছাড়াও, তান্ত্রিক ঐতিহ্যে জগন্নাথদেবকেও বজ্রেশ্বর নামে অভিহিত করা হয়। ধার্মিকতার রক্ষক এবং দুষ্টের দমনকারী তিনি।
“বজ্র” অর্থ অটল, কঠিন ও অপ্রতিরোধ্য শক্তি।
“ঈশ্বর” অর্থ সর্বশক্তিমান প্রভু। তাই বজ্রেশ্বর মানে যিনি বজ্রের ন্যায় অপরাজেয় শক্তির অধিকারী।এই রূপে শিব বজ্রের মতো অদম্য শক্তি, অশুভ বিনাশ এবং ধর্মরক্ষা-র প্রতীক।এই রূপে শিবের দেহ থেকে তেজ ও বিদ্যুতের মতো জ্যোতি বিচ্ছুরিত হয় হাতে ত্রিশূল বা বজ্রশক্তির প্রতীক অস্ত্র। তিনি ক্রোধময় কিন্তু ন্যায়রক্ষাকারী
শাস্ত্র মতে “ওঁ বজ্রেশ্বরায় নমঃ” মন্ত্র জপের মাধ্যমে
শিবের অবতারের পূজো হয়।
ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে। আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
