সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর স্বরূপ

25

সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর স্বরূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবী সরস্বতীকে শাস্ত্রে নানা ভাবে ব্যাখ্যা ওব বর্ণনা করা হয়েছে। আজ দেবীর স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করবো জানবো তার সহজ ব্যাখ্যা।

 

সৃষ্টির আদি পর্বে ঈশ্বরের শক্তি পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয় এই পাঁচটি শক্তি হলো রাধা, পদ্মা, সাবিত্রী দূর্গা এবং সরস্বতী।দেবী সরস্বতী শ্রুতি শাস্ত্রের মধ্যে শ্রেষ্ঠা। তিনি শুক্লাবর্ণা, বীনা ধারিণী এবং চন্দ্রের

শোভা যুক্ত।দেবী কবিদের ইস্ট দেবী তাই তার নাম সরস্বতী।

 

শ্রীকৃষ্ণই প্রথম দেবী সরস্বতীর পুজো করেন। শ্রী কৃষ্ণর পরামর্শ মেনেই দেবী সরস্বতী নারায়ণ ভজনা শুরু করেন। দেবী ভাগবত মতে সরস্বতী ব্রম্হার স্ত্রী আবার ব্রহ্মবইবর্ত পুরান মতে দেবী সরস্বতী নারায়ণের স্ত্রী।দেবী সনাতন ধর্মের প্রধান দেবীদের মধ্য অন্যতম শ্রেষ্ঠা।

 

দেবী সরস্বতীর বাহন রাজ হংস কারন হংসের রয়েছে এক অদ্ভুত ক্ষমতা, হংস জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম। জল ও দুধ একত্রে মিশ্রিত থাকলে হাঁস শুধু সারবস্তু দুগ্ধ বা ক্ষীরটুকুই গ্রহণ করে, জল পড়ে থাকে। জগতে জ্ঞান থাকবে অজ্ঞানতাও থাকবে, শিক্ষা থাকবে অশিক্ষাও থাকবে, সংস্কার থাকবে কু সংস্কার ও থাকবে, তবে আমাদের সচেতন ভাবে হংসের ন্যায় ভালো টা নিতে হবে আর খারাপ টা বর্জন করতে হবে এটা বোঝাতেই সরস্বতীর বাহন হিসেবে হংসকে নির্বাচিত করা হয়েছে|

 

আবার রাজ হংস পরমব্রহ্ম পরমাত্মার প্রতীক স্বরূপ। পরম জ্ঞানের প্রতীক। তাই দেবী সরস্বতীর

বাহন রূপে রাজ হংস যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

 

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে দেবী সরস্বতী সংক্রান্ত বিশেষ শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।