সরস্বতী মাহাত্ম্য – দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আগামী ২৩ এ জানুয়ারি সরস্বতী পুজো।সসেই উপলক্ষে শুরু করেছি এই ধারাবাহিক লেখা।
আজ আসুন জেনে নিই দেবী সরস্বতীর উৎপত্তি এবং তাঁর সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
দেবী সরস্বতী মূলত পৌরাণিক দেবী।পুরান মতে সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে ধ্যানে বসেন সৃষ্টি কর্তা ব্রম্ভা সেই ধ্যানে তিনি তাঁর সকল ভালো গুণকে একত্র করতে থাকেন। আর ব্রহ্মার সকল ভালো গুণ একত্রিত হয়ে তা ধীরে ধীরে এক নারীর আকার নিতে থাকে।এবং সেই নারী পরবর্তীতে আবির্ভুতা হন দেবী সরস্বতী রূপে,এবং
এই ভাবেই ধ্যান মগ্ন ব্রহ্মার মুখ গহ্বর থেকে সৃষ্টি হয় দেবী সরস্বতীর।
জন্মের পর সরস্বতী এই বিশ্বকে কী ভাবে আরও সুন্দর করে তোলা যায় সে সম্পর্কে পরামর্শ দেন তাঁর জ্ঞানে মুগ্ধ হয়ে ব্রহ্মা দেবী সরস্বতীর উপর দায়িত্ব দেন বিশ্বের সৌন্দর্য রক্ষা ও সমস্ত সৃজন শীল কাজের|
তবে সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকেই দেবী এই বিশ্বে বিরাজ করছেন।সরস্বতী শব্দের দুই অর্থ – একটি ত্রিলোক্য ব্যাপিনী সূর্যাগ্নি, অন্যটি নদী, শব্দের অর্থ অনুসারে সর শব্দের অর্থ জল অর্থাৎ যাতে জল আছে তাই সরস্বতী।পুরাকালে দেবী সরস্বতী নদীরূপে দেশকে উর্বরা করতেন। জলকে পবিত্র করতেন। বাগদেবী বোঝাতে সরস্বতী নদীর অধীস্টাত্রী দেবীকে বোঝানো হয়।
দেবী সরস্বতী শিল্প,সাহিত্য শিক্ষা এবং জ্ঞানের দেবী। দেবীর আশীর্বাদে যেকোনো সৃজনশীল কাজেই সাফল্য পাওয়া যায়।
অনেকেই মনে করেন সরস্বতী এবং লক্ষী অর্থাৎ বিদ্যা এবং অর্থ একসাথে থাকেনা। দুয়ের বিরোধ আছে। কিন্তু শাস্ত্র সম্মত ভাবে এই মত সমর্থন যোগ্য নয় কারন দুই দেবীই একে অন্যের পরিপূরক। বিদ্যা ছাড়া শ্রী লাভ বা লক্ষী লাভ
করা বাস্তব জগতে অসম্ভব।
আগামী পর্বে দেবী সরস্বতী সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় তথ্য এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
