মৌনী অমাবস্যার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ মৌনী অমাবস্যা।পঞ্জিকা মতে মাঘ মাসে মহা শিব রাত্রির আগের শেষ অমাবস্যাই হলো মৌনী অমাবস্যা ৷ অর্থাৎ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাই মৌনী অমাবস্যা।
আমাদের তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে এই মৌনী অমাবস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে। এই মৌনী অমাবস্যা তিথিতেই জন্মে ছিলেন মহান ঋষি মনু। বলা হয় ঋষি মনুর নাম থেকেই মৌনী অমাবস্যা নামকরন|শাস্ত্র মতে মৌনী অমাবস্যার এই বিশেষ দিনেই সূচনা হয়েছিল দ্বাপর যুগের।
সংস্কৃতে মৌন শব্দের অর্থ হলো মৌনী অবস্থা আমাদের অন্তর মুখী করে। ঈশ্বরের আরো কাছে নিয়ে যায়।এই উদ্দেশ্যে মৌনী অমাবস্যার এই তিথিতে সাধকেরা মৌনব্রত পালন করে থাকেন।
যুগ ধরে তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে মৌনী অমাবস্যা একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে|
জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিন টির আলাদা তাৎপর্য আছে, এদিন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ সঞ্চার।
আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে এই মৌনী অমাবস্যার পূণ্য তিথিতে মৌনব্রত পালন করলে জীবনের সব আকাঙ্খা, মোহ এবং ইন্দ্রিয়কে নিজের অধীনে রাখা যায় এমনকি এই তিথিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে একজন সাধক জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্তি লাভ করে মোক্ষ লাভ ও করতে পারেন|
বহু মানুষের বিশ্বাস এই তিথিতে স্বর্গের দেবতারা নেমে আসেন মর্তে এবং প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনা-স্বরস্বতীর মিলনস্থল ত্রিবেনীসঙ্গমে পূণ্য স্নান করেন|
নিজেদের কর্মফল থেকে মুক্তি লাভের আশায় ত্রিবেনী সহ দেশের বিভিন্ন নদী সঙ্গমে স্নান করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ|শাস্ত্র মতে মৌন ব্রত পালন করে, অমাবস্যায় যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে মানব জীবনের বহু জন্মের পাপ ধুয়ে যায়|এদিন নৈঃশব্দ্য পালন করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং রোগমুক্তি ঘটে|শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য মৌনী অমাবস্যা আদৰ্শ তিথি।প্রতি বছরের ন্যায় আজও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ পুজো এবং গ্রহ দোষ খন্ডনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে ।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
