কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

7

কালী কথা – মহারাজা নন্দ কুমারের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের বাংলার এমন এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের কথা বলবো যার সাথে জড়িয়ে আছে মহারাজা নন্দ কুমারের নাম তাই অনেকেই এই কালীকে মহারাজা নন্দ কুমারের কালী বলে থাকেন।

 

তবে এই কালী মন্দিরের ইতিহাস আরো অনেক বেশি প্রাচীন।মগধরাজ জরাসন্ধ এবং রানী অহল্য বাই এর সাথে এই কালী মূর্তির সম্পর্ক রয়েছে।

 

তখন বর্তমানের বিহার ছিল ইতিহাসের মগধ ক্ষেত্র

কষ্টিপাথরে তৈরি পদ্মাসনা কালীমূর্তিকে মগধ রাজ জরাসন্ধ পুজো করতেন।তার নামেই তখন কালীর নাম হয় জরাসন্ধ কালী জরাসন্ধের মৃত্যুর পর সেই মূর্তি স্থান পায় পাতালে ।কেটে যায় বহু বছর। পরবর্তীতে রানি অহল্যাবাই কিছুদিন মগধে থাকাকালীন স্বপ্নাদেশে পাতালে দেবী মূর্তির সন্ধান পান।তার নির্দেশে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে শুরু হয় খনন। সেখান থেকে উদ্ধার হয় জরাসন্ধের এই প্রাচীন কালী মূর্তি।

 

দেবী মূর্তিটি কোষ্টি পাথরের তৈরী সাপের কুণ্ডলীর উপর পদ্মাসনে বসেন দেবী। মাথায় তার সহস্র নাগের ফনা। হাতে পায়ে সাপের নকশা।

 

মূর্তিটি যেহেতু মগধে মিলেছে এবং সেই সময়ে ওই স্থান কাশী রাজের অধীনে তাই রানি অহল্যা সেটি তৎকালীন কাশীরাজ চৈতসিংকে দান করেন। সেই সময়ে ব্রিটিশ শাসনধীন ভারতের বড়লাট অর্থাৎ তৎকালীন ইংরেজ শাসক ওয়ারেং হেস্টিংসের নজরে পড়ে মূর্তিটির উপরে তার মনে

ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে সেটি নিয়ে

যাওয়ার বাসনা জাগে। সেকথা জানতে পেরে কাশীরাজ চৈত সিং তখন মূর্তিটি বাঁচাতে

সেটিকে কাশীর দশাশ্বমেধ ঘাটে গঙ্গার পবিত্র জলে লুকিয়ে দেন।এক কথায় পাতাল থেকে খুঁজে আনা মূর্তির সলীল সমাধি ঘটে।

 

আবার কিছুকাল অতিক্রান্ত হয়। তখন মহারাজ নন্দকুমার বাংলার দেওয়ান।তিনি কাশীধামে যান। তীর্থ করতে এবং গঙ্গাবক্ষ থেকে কালী মূর্তি তুলে আনার স্বপ্নাদেশ পান।গঙ্গা থেকে আবার দেবী দেবী উদ্ধার হয় সেই মূর্তি তিনি নলহাটির এই আকালীপুরে এনে প্রতিষ্ঠা করেন এবং পুজোর ব্যাবস্তা করেন।এককালের জরাসন্ধা কালী হয়ে যান বাংলার অকালী পুরের মহারাজা

নন্দ কুমারের কালী।

 

বর্তমানে এই আকালীপুরের মন্দিরে পুজো হয় দিনের বেলা। সমস্ত তান্ত্রিক নিয়ম অনুসরণ হয় । তবে সব কিছুই দিনের বেলা হয় কারন রাতে

মা নৈশলীলা করেন। তাই নিঝুম অন্ধকার থাকেন এবং পরিবেশ থাকে শান্ত এবং নিস্তব্ধ।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। কালী কথা নিয়ে। মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে ধরাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।বাকি আছে বহু এমন অলৌকিক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।