শিব কথা – ত্রিশূল রহস্য

263

শিব কথা – ত্রিশূল রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবতা দের আরাধ্য দেবতা হলেন দেবাদিদেব মহাদেব।তিনি আবার সংহার কর্তাও। যতো কঠিন কাজের ভার তার উপরেই অর্পণ করা হয়।

মা গঙ্গাকে জটায় ধারণ করা হোক বা হলাহল বিষ পান করা হোক সবই শিবকে করতে হয়েছে।

 

কিন্তু শিবের অস্ত্র ত্রিশুল কে নিয়ে সেই ভাবে আলোচনা হয়না তবে দেবাদিদেব মহাদেবেকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তার চির সঙ্গী ত্রিশূলের কথা না বলা হয়। সংহার কর্তা মহাদেবের প্রধান অস্ত্র তার ত্রিশূল।

 

শুধু অস্ত্র নয় শুভ শক্তির প্রতীক এই ত্রিশূল।

আবার এই ত্রিশূলই তিনি তুলে দেন দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের সময়ে।কারণ অশুভ শক্তি নাশের ভার ছিলো দেবী দুর্গার উপরে।

 

দেব শিল্পী বিশ্ব কর্মাই সমস্ত দৈব্য এবং স্বর্গীয় নির্মাণ করে থাকেন মহাদেবের অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী

বিশ্বকর্মার উপর|

 

বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমে তাতে বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যর পত্নী সংজ্ঞা স্বামীর অতিরিক্ত তেজ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান|এখানে ত্রিশুল একসাথে দুটি সমস্যার সমাধান করে।

 

ত্রিশুল দিয়ে যেমন শিব ব্রম্ভার একটি মাথা খণ্ডন করেন তেমনই ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে। আবার বহু অসুর এবং দৈত্যর প্রাণ গেছে এই ত্রিশুলের আঘাতে।

 

ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় সনাতন ধর্মে ত্রিশূল সমৃৃদ্ধির প্রতীক আবার ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত। সনাতন ধর্মের পবিত্র নগরী কাশী অবস্থান করছে এই মহাদেবের ত্রিশূলে।

 

বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসে এবং নীল ষষ্টির শিব পুজোর সময়ে শিবকে ত্রিশূল অর্পণ করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।কবচ আকারে পবিত্র ত্রিশুল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

 

চৈত্র মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।