দশহরা ও মা গঙ্গার পূজোর শুভেচ্ছা 

12

দশহরা ও মা গঙ্গার পূজোর শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

গঙ্গার মর্তে আগমনের সময় নিয়ে মত পার্থক্য আছে অনেকে মনে করেন অক্ষয় তৃতীয়ায় মর্তে গঙ্গার আগমন হয় আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন আজকের তিথিতে অর্থাৎ এই গঙ্গা দশহরা পূজোর দিন গঙ্গার আগমন হয় মর্তে।তাই আজ গঙ্গা দশহরায় মা গঙ্গার পূজো হয়।

রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য গঙ্গাকে মর্তে এনে ছিলেন। গঙ্গার প্রবল তেজে পৃথিবী যখন ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয় তখন শিব গঙ্গাকে তার জটায় আশ্রয় দেন। সেই থেকে শিবের জটায় গঙ্গার অবস্থান।

সনাতন ধর্মে গঙ্গা কোনো সাধারণ নদী নয়। গঙ্গা এক দেবী তার উৎপত্তি নিয়ে পুরানে নানা তথ্য পাওয়া যায়।

শাস্ত্র আমাদের বলে যে গঙ্গা সপ্তমীর দিনে মা গঙ্গা ব্রহ্মার কমন্ডল থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

গঙ্গা সম্পর্কে শিবের স্ত্রী পার্বতীর বোন।

পুরানে দেবী গঙ্গার জন্ম নিয়ে অনেক জনপ্রিয় গল্প আছে। বামন পুরাণ অনুসারে, শ্রী হরি বিষ্ণু যখন তাঁর বামন রূপে তাঁর একটি পা আকাশের দিকে তুলেছিলেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা তাঁর পা জল দিয়ে ধুয়ে তাঁর কমণ্ডলুতে ভরেছিলেন। এই পবিত্র জলের তেজ ও শক্তিতে ভগবান ব্রহ্মার কমণ্ডলে দেবী গঙ্গার জন্ম হয়েছিল। এর পর ব্রহ্মা তাকে হিমালয় রাজের হাতে তুলে দেন । সেই থেকে মা গঙ্গা এবং দেবী পার্বতীকে বোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

রামায়ণ অনুসারে আরেকটি কাহিনি আছে যেখানে বলা হচ্ছে ব্রহ্মা হিমাবত সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি পরে হিমালয়ের রাজা হন এবং মেরু কন্যা মেনকা বিয়ে করেন। বেশ কয়েক বছর পর, তারা একটি কন্যার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যার নাম তারা গঙ্গা রাখেন। কিছু বছর পর, তাদের আরেকটি কন্যা হয়েছিল যার নাম তারা পার্বতী রাখে এবং যাকে সতীর অবতার বলে

মনে করা হয়।

সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় আজকের দিনে গঙ্গাস্নান করলে বা গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল এবং

ফল নৈবেদ্য রূপে প্রদান করলে বহু জন্মের পাপ

খণ্ডন হয়।

সবাইকে জানাই দশহরা এবং গঙ্গা পূজোর

অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।