শিব কথা – শিব ধাম কৈলাশ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের পর্ব শিব ধাম কৈলাশ নিয়ে।
শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|
এই কৈলাশ নিয়ে রয়েছে অনেক লোক কথা আছে অনেক কিংবদন্তী। তার কতোটা সত্য কতোটা কল্পনা তা বিচার করা খুব কঠিন। তবে একথা সত্য যে কৈলাশ হিন্দু এবং বৌদ্ধদের মধ্যে অত্যন্ত পবিত্র এবং রহস্যময় এক স্থান।
প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। শোনা যায় ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।
ভৌগোলিক ভাবে কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী।
একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সময়ের ধরা বাঁধা গন্ডির বাইরে অবস্থিত এই পর্বত তাই এখানে নিদ্দিষ্ট এরিয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়া মানে প্রকৃতির বিরুদ্ধে যাওয়া । তাই এই সব হয়।
তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল।প্রায় পনেরো হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক এই মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে।
বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|এই শাম্বালাই অনেকের মতে জ্ঞান গঞ্জ
যেখানে উচ্চ কোটির সাধু মহাত্মারা বাস করেন।
বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশের আশেপাশে
বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।যেমন রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। একবার নয় বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|
আমার মতে যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনা ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক
সামনেই অন্নপূর্ণা পুজো ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে দেবী অন্নপূর্ণাকে নিয়ে শাস্ত্রীয়
আলোচনা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।