স্বেত কালীর পুজো

34

স্বেত কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধারণত কালী মানেই আমরা কৃষ্ণ বর্ণা দেবীকে বুঝি।শ্যামা রূপই দেবী কালীকা পূজিত হন সর্বত্র।

তবে আজ কালী কথায় এমন এক কালী পুজোর কথা জানাবো যেখানে দেবী কালো নন তিনি স্বেত বর্ণা। শুনতে অদ্ভুত লাগলেই এটা সত্যি।

 

কুলটি তে রয়েছে এই অদ্ভুত কালী মন্দির যেখানে সাদা রূপে পূজিতা হন মা কালী|শোনা যায় এইরূপে ভবতারিণী প্রথম দর্শন দিয়েছিলেন সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে।যাই হোক সে অন্য প্রসঙ্গ।এই কুলটির সাদা কালীর পুজো সাধক মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেন এখানে ।

 

দেবী কালীর এমন সাদা রূপের আরাধনা, সচরাচর দেখতে পাওয়া যায়না পশ্চিম বর্ধমান জেলায় একমাত্র এখানেই রয়েছে সাদা রংয়ের কালীমূর্তি। এই দেবী একইসঙ্গে অসুরদলনী ও অন্যদিকে রক্ষাকর্ত্রী এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা এবং পূজারী মধুময় ঘোষ বলতেন দেবী কালিকা তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন নিত্য পূজা করার জন্য। আর দেবী তার এইরূপ আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিলেন। তারপর থেকে নিয়মিত পুজো নিয়ে আসছেন কুলটির সাদা কালী যাকে অনেকে ফলহারিণী কালীও বলেন।কারন এই কালীর পুজো করলে নাকি কর্মফল ভুগতে হয়না এবং ফল হারিণী অমাবস্যাই এই মন্দিরের প্রধান উৎসব

 

আজ সেই সাধকের পরিবারের সদস্যরা পুজো করে আসছেন পাশাপাশি গ্রামের মানুষও দেবী কালিকার সাধনায় মেতে ওঠেন। ফল হারিণী অমাবস্যা সহ প্রত্যেক অমাবস্যায় জাঁকজমক সহকারে হয় পুজো। স্থানীয় মানুষজনও সেই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।

 

পাশের জেলা বাঁকুড়ার শুশুনিয়া থেকে মূর্তিটি নিয়ে এসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। সেই মূর্তির নিত্য পুজো হয়। প্রতিষ্ঠাতা মধুময় ঘোষ স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরেই বাঁকুড়ায় উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে গিয়ে তিনি মায়ের মূর্তিটি পান এই রূপেই। তাই সেই রুপেরই আরাধনা শুরু করেছেন তিনি।

বর্তমানে স্বেত কালী নিঃসন্দেহে বাংলার জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দির গুলির অন্যতম।

 

কালী কথার পরবর্তী পর্বে থাকবে এমনই এক ঐতিহাসিক এবং অলৌকিক ঘটনায় সমৃদ্ধ কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।