বাংলার কালী – তেলো ভেলোর কালী পুজো

18

আরামবাগের তেলো ভেলোর কালী পুজো গোটা হুগলী জেলার মধ্যে বলা যায় সর্বাধিক প্রসিদ্ধ।

এই পুজোর সাথে জড়িত সাধক রামপ্রসাদ এবং মা সারদার নাম। রয়েছে একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। আজ এই পুজোর কথা আপনাদের জানাবো।

 

প্রথমে বলি মা সারদার কথা।একবার মা সারদা দক্ষিণেশ্বর যাওয়ার পথে তেলো ভেলোর কালী মন্দির চত্বরে রাত কাটিয়েছিলেন। সেদিন তিনি যাত্রা পথে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং সেই রাতে স্বপ্ন দেখেন এক মায়াবী নারী তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন এবং ভোরেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে তাকে আশ্বস্ত করছেন। মা সারদা পরদিন সুস্থ হয়ে উঠে দক্ষিণেশ্বরে ফিরে যান। জন শ্রুতি আছে সেই রাতে মা কালী স্বয়ং এসেছিলেন সারদা মায়ের কাছে।

 

আরামবাগের তেলুয়া গ্ৰামের এই মন্দিরে আজও পশ্চিমে মুখ করে রক্ষাকালীর পুজো হয়। তবে শুরু থেকে এমন ছিলোনা। আগে মায়ের মূর্তি

নিয়ম মতো দক্ষিণমুখীই ছিলো শোনা যায়

একবার সাধক রামপ্রসাদ মেদিনীপুর যাওয়ার পথে এই স্থানে বিশ্রাম নিয়েছিলেন। রাতের বেলায় রামপ্রসাদ মন্দিরের পশ্চিম চাতালে বসে গান গেয়েছিলেন।সেই রাতে  দক্ষিণমুখী দেবী গান শুনতে পশ্চিম দিকে ঘাড় ঘুরিয়েছিলেন। পরেরদিন সকালে গ্ৰামবাসীরা এসে দেখেন কালীর ঘাড় পশ্চিম দিকে ঘুরে গিয়েছে। মাটির প্রতিমার গলায় চিড় ও ধরেছে। সেই রাতেই মন্দিরের পুরোহিত দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। দেবী তাঁকে বলেন, পশ্চিম দিকে দরজা রাখতে এরপরেই মন্দিরের পশ্চিম দিকে দরজা করা হয়। বেদী পশ্চিম দিক করে নতুন করে গড়া হয়। এরপরেই পশ্চিমমুখী দেবীর পুজো শুরু হয়।আজও তাই মন্দিরে দক্ষিণ এবং পশ্চিমদিকে দুটো দরজা আছে।

 

তবে শুধু প্রাচীন ইতিহাস নয় এই মন্দির নিয়ে আছে একাধিক অলৌকিক ঘনার উল্লেখ।

শোনা যায় একবার এই গ্ৰামে কলেরায় বহু মানুষ যখন মারা যাচ্ছে তখন দেবীর কাছে বিশেষ প্রার্থনা জানানো হয় এবং পুজো করা হয়

এরপরেই গ্ৰামে কলেরার প্রকোপ কমে যায়।

 

আজও যেকোনো বিপদে এই দেবীর কাছে ছুটে আসেন তার ভক্তরা।দেবী কাউকে খালি হাতে ফেরান না বলেই বিশ্বাস।পুজোর সময়

আজও রামপ্রসাদের গান বাজে।

 

যথা সময়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।