বাংলার কালী – সাগর দীপের আদি কালী মন্দির

37

সাগর দ্বীপ বলতেই মনে আসে গঙ্গাসাগর মেলা এবং কপিল মুনির আশ্রম। কিন্তু এই সাগর দ্বীপে আছে এক প্রাচীন কালী মন্দির যা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়না।সাগরদ্বীপ যবে থেকে গঠিত হয়েছে তবে থেকেই সেখানে তাঁর অধিষ্ঠান ৷

 

তখন এই স্থান ঘন জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। জল দস্যু, বাঘ কুমির আর অশরীরী আত্মা দের বাস ছিলো এই দুর্গম স্থান সেই সময়ে অর্থাৎ প্রায় চারশো থেকে পাঁচশো বছর আগে স্বপ্নাদেশে পুজো

শুরু হয়

 

তৎকালীন সময়ে জঙ্গলের হিংস্র জীবজন্তুর হাত থেকে নিজেদেরকে বাঁচাতে একটি বটবৃক্ষের তলায় পূজার্চনা করে জঙ্গলে যেতো মৎসজীবি এবং মধু সংগ্রহ কারীরা। পাশাপাশি বণিকরাও এই দেবী মন্দিরে পুজো করে সমুদ্র যাত্রা করতো

 

দেবীর উপস্থিতির জন্য নাকি এই স্থানে হিংস্র জীবজন্তুর আক্রমণে মৃত্যুর পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছিল ৷ তখন থেকে বেশ কয়েকজন উপকূল তীরবর্তী এলাকার মানুষজনেরা জঙ্গল পরিষ্কার করে এই সাগরদ্বীপেই বসবাস শুরু করে। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে বৃহত্তর জন পদ।

 

এখানে দেবীর পাঁচটি বড় মূর্তি রয়েছে ৷ এছাড়াও ছোট ছোট অনেক কালীমূর্তি রয়েছে ৷ মানত করে এগুলি ভক্তরা দিয়ে গিয়েছেন ৷ তখন থেকে সব মূর্তিই পুজো হচ্ছে ৷ নিত্যপুজো ছাড়াও প্রতি মঙ্গল ও শনিবার বিশেষ পুজো হয় এখানে ৷ এছাড়াও প্রতিবছর কালীপুজোর দিন জাঁকজমকের সঙ্গে পুজো হয় ৷ এই মন্দিরের মা খুবই জাগ্রত । এখানে পুজো দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে । মা করুণাময়ী সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন ।”

আদি কালী মন্দির নামে সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গ বাসির কাছে দেবী পরিচিতা

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অন্য এক কালী মন্দিরের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।