গুরু কথা – সীতারাম দাস ওমকার নাথ

255

শ্রী শ্রী সীতারাম দাস ওমকার নাথআসন্ন গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে ভারতের কিছু মহান ও প্রখ্যাত গুরুদের মহিমা এবং অলৌকিক নানা ঘটনা বর্ণনা করা শুরু করেছি|আজকের পর্বেজানাবো মহান সাধক শ্রী শ্রীসীতারাম দাস ওমকার নাথ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং তার জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনা।শ্রী শ্রী সীতারাম দাস ওমকার নাথ ইংরেজি 1891 সালে হুগলীর ডুমুর দহে প্রান হরি চট্টোপাধ্যায় ও মালতি দেবীর গৃহে জন্মান তার নাম রাখা হয় প্রবোধ চন্দ্র|আত্মীয় স্বজন রা তাকে গৃহী দেখতে চেয়েছিলো তাই ঠাকুরচরণ ভট্টাচার্য্যের কন্যা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ দিলেন|কিন্তু ক্রমে আধ্যাত্মিক ভক্তির সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকেন সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ এবং দুই সন্তান এর জন্মের পর ঘর ছেড়ে সন্যাসী হয়ে বেড়িয়ে পড়লেন তিনি।পরবর্তীতে সাধক দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের কাছে দীক্ষা নিলেন|গঙ্গা যমুনা সঙ্গম এ রাম নাম মন্ত্রে তার দীক্ষা হয়েছিলো||সর্বত্র রাম নাম প্রচার করতেন তিনি|একবার পুরীর স্বর্গদ্বারে গিয়ে তিনি জগন্নাথ দেবের দর্শনের উদ্দেশ্যে ধ্যানে বসেন। মনে মনেসংকল্প করেন হয় প্রভু দেখা দেবেন নাহলে এই ভাবেই সমাধিস্ত অবস্থায় তিনি দেহ রাখবেন।দীর্ঘ সময় ধ্যান করার পর স্বয়ং জগন্নাথ দেব তাকে দর্শন দেন এবং আদেশ দেন রাম নাম প্রচার করতে। তিনি ফিরে আসেন বাংলায়।সীতারাম দাস মৌরিগ্রামের এসে আবিষ্কার করেন এক অরণ্যে ঢাকা অযত্নে পড়ে থাকা প্রাচীন চন্ডী বিগ্রহ। কয়েকজন ভক্ত শিষ্য নিয়ে তিনি সেই দুর্গম জঙ্গলে শুরু করেন পরিত্যক্ত বিগ্রহ উদ্ধারের কাজ। পদে পদে বাঁধা আসে। বিষধর সাপ। হিংস্র জন্তু আক্রমণ করে তাদের। অলৌকিক ভাবে সীতারাম দাস রাম নাম শুনিয়ে তাদের শান্ত করেন।পরবর্তীতে বহু কষ্টে ঘট স্থাপন করে পুজোর ব্যবস্থা হয়।পুজোর সময় ঘটে আরো এক অলৌকিক ঘটনা। বিদ্যুৎচমকের মতো এক লাল আভায় ঢেকে যায় আকাশ। তার পর সেই স্থানে শুরু হয় পুষ্প বৃষ্টি।রাশি রাশি লাল জবা ফুল ঝরে পড়তে থাকে আকাশ থেকে। বৃষ্টি থামতে দেখা যায়। মাটি ঢেকে গেছে লাল ফুলে। সবাই অবাক। সীতারাম কিন্তু এক মনে পূজোর ব্যবস্থা করে চলেছেন।এমন বহু ঘটনা আছে সীতারাম দাসের জীবনে।ধীরে ধীরে সাধক সীতারাম রাম নামের প্রচারে সপেঁ দেন জীবন|আজও অসংখ্য ভক্ত শিষ্য তার বাণী এবং দর্শন প্রচার করে চলেছেন।এই মহান সাধককে প্রণাম করে শেষ করছি আজকের পর্ব।দেখা হবে পরের পর্বে। থাকবে এমনই কোনো সিদ্ধ গুরুর অলৌকিক জীবন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।