দেবী মাহাত্ম- সাধক কমলা কান্তের কালীবাড়ি

114

বাংলার মাটিতে জন্ম নেয়া সিদ্ধ মাতৃ সাধকদের মধ্যে অন্যতম সাধক কমলাকান্ত। তার সাধন পীঠ আজ কমলা কান্তের কালী বাড়ি নামে প্রসিদ্ধ। আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই মহান সাধক ও তার কালী বাড়ি সম্পর্কে কিছু অদ্ভুত এবং ঘটনা।

একবার এই মন্দিরের প্রতিমায় বেলকাটা ফোঁটানোয় বেরিয়ে এসেছিল রক্ত। সেই অলৌকিক কাণ্ড করে সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত। আজও যারা এই বিখ্যাত কালীবাড়িতে যান সেই কথা স্মরণ করেন।
শোনা যায় সাধক কমলাকান্ত এক অমাবস্যার দিনে বর্ধমানের মহারাজাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন।তার অলৌকিক ক্ষমতায় প্রসন্ন হয়ে মহারাজ তাকে রাজ গুরুর পদ দিয়েছিলেন।

সাধক কমলা কান্তের মন্দিরে রয়েছে নর্মদেশ্বর শিব। যাঁরা সেই শিবলিঙ্গের ছবি তোলেন, তাঁদের ছবিতে শিবলিঙ্গের সঙ্গেই নাকি এক আবছা রক্তমাখা খাঁড়ার ছবি ওঠে। যদিও বাস্তবে শিবলিঙ্গের পাশে কোনও রক্তমাখা খাঁড়া থাকে না। যদিও এই দাবীর সত্যতা প্রমান করা সহজ নয়। তবু এই জনশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন অনেকেই।

সাধকের লোকান্তরিত হওয়া নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা শোনা যায়।বিষধর সর্প রূপে স্বয়ং মহাকাল নাকি সাধকের বুকে এক ছোবল দেয় এবং সেই কালকেউটের ছোবলেও তার ধ্যানভঙ্গ হল না তবে মুহুর্তের মধ্যে ঘুচে গেল অন্ধকার। ছিন্ন হল সব মায়াজাল। মাতৃ সাধক ফিরে গেলেন মাতৃক্রোড়ে।চীরনিদ্রায়।

আবার অন্য একটি জলনশ্রুতি মতে সাধক কমলাকান্ত শেষ সময়ে গঙ্গায় যেতে চাননি। তখন দেখা গিয়েছিল, এই কালীবাড়ির মাটি ফুঁড়ে আচমকা উঠে এসেছিল জল। যা আসলে গঙ্গা বলেই বিশ্বাস ভক্তদের। সেই জল যে স্থান থেকে উঠে এসেছিল। আজও সেই জলাধার কুয়োর মত বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে কমলাকান্তের কালীবাড়িতে।

এই মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন কমলাকান্ত। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর মায়ের চরণতলে তাঁকে ঠাঁই দেওয়া হয় এবং মায়ের থেকে তাঁকে যেন কোনওভাবেই আলাদা না করা হয়। সেই ইচ্ছানুসারে, তাঁর সমাধির উপরই প্রতিষ্ঠা করা হয় মায়ের মূর্তি ও মন্দির। কমলাকান্তকালী বাড়িতে ধাতুর তৈরি এক অনিন্দ সুন্দর মূর্তি আছে। জা আমি নিজে দর্শন করেছি। অপূর্ব সেই অনুভূতি।

ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী মাহাত্মর নতুন পর্ব নিয়ে।চলবে মন্দির রহস্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।