পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

200

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক এবার বাংলা নববর্ষ অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ পড়েছে আগামী ১৫ এপ্রিল অর্থাৎ শনিবার। শুরু হবে ১৪৩০ বঙ্গাব্দ।এই বৈশাখ মাসের বিশেষ আধ্যাত্মিক তাৎপর্য আছে এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বৈশাখ মাস নানা ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেই সব নিয়েই আজকের পর্বে আলোচনা করবো।জমিদারির যুগে পয়লা বৈশাখ মানে ছিলো খাজনা আদায়ের শুরু, নতুন ফসল বেচে কৃষকদের হাতে অর্থ আসতো এবং তারা উৎসবে মেতে উঠতেনআবার ভূমির মালিকরা নিজ নিজ অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে মিষ্টান্ন দ্বারা আপ্যায়ন করতেন। এ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হত। এই উৎসবটি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয় যার রুপ পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে এই পর্যায়ে এসেছে|ব্যবসা বাণিজ্যর ক্ষেত্রেও পয়লা বৈশাখের ভূমিকা রয়েছে|তখনকার সময় এই দিনের প্রধান ঘটনা ছিল একটি হালখাতা তৈরি করা। হালখাতা বলতে একটি নতুন হিসাব বই বোঝানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে হালখাতা হল বাংলা সনের প্রথম দিনে দোকানপাঠের হিসাব আনুষ্ঠানিকভাবে হালনাগাদ করার প্রক্রিয়া। গ্রাম, শহর বা বাণিজ্যিক এলাকা, সকল স্থানেই পুরনো বছরের হিসাব বই বন্ধ করে নতুন হিসাব বই খোলা হয়। হালখাতার দিনে দোকনদাররা তাদের ক্রেতাদের মিষ্টান্ন আপ্যায়ন করে থাকে। এই প্রথাটি এখনও অনেকাংশে প্রচলিত আছে|সনাতন ধর্মে বৈশাখ মাসকে মাধব মাস বামধুসূদন মাস বলা হয়।যার অর্থ ভগবান কৃষ্ণের মাস। এই মাসে ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।বৈশাখ মাসে গঙ্গায় অর্ঘ্য দান করলেন এবং গঙ্গা স্নান করলে নানাবিধ সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ হয়।“বৈশাখ” শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নাম থেকে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের খুব কাছে দেখা যায়। এই বছর ঠিক পয়লা বৈশাখের আগের দিনই ঘটতে চলেছে সূর্যের রাশি পরিবর্তন।সেদিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল সূর্য মীন রাশি ছেড়ে মেষ রাশিতে প্রবেশ করবে। আর এর পরেই ২০ এপ্রিল হতে চলেছে বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে বারোটি রাশিই ওই সঞ্চার ও গ্রহণের ফলে নানা ভাবে প্রভাবিত হবে।যা নিয়ে পরবর্তীতেবিস্তারিত আলোচনা করা যেতে পারে।পয়লা বৈশাখ থেকে সমগ্র বৈশাখ মাস জুড়ে বিষ্ণুর পুজো করা উচিত। এই সময় সকালে সূর্য প্রণাম করে ” ওম মাধবায় নমঃ “মন্ত্র জপ করুন। শাস্ত্র মতে এই মন্ত্রটি জপ করলে মানুষের জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি আসে পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে সব সমস্যা দূর হয় ও উন্নতি হয়। এই সময়, ভগবান বিষ্ণুর পুজোয় তুলসী পাতা ও পঞ্চামৃত ব্যবহার করতে পারেন । এছাড়া বৈশাখ মাসে গীতা পাঠ বা শ্রবণ করা উচিত।তাতে আধ্যাত্মিক উন্নতি হয় ও ভগবানের বিশেষ আশীর্বাদ লাভ হয়।শাস্ত্র মতে সূচনা হোক নতুন বছরের। আজ সবাইকে জানাই শুভ নববর্ষ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।