দেবী মাহাত্ম – পুরুষোত্তম পুরের ডাকাত কালী

150

বাংলার কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখতে বা বলতে গেলে অনিবার্য ভাবে ডাকাত কালী প্রসঙ্গ আসবেই।আজ আপনাদের জানাবো।হুগলির পুরুষোত্তম পুরের সনাতন ডাকাতের কালীপুজোর কথা।স্বাধীনতার বহু আগে। দুর্গম এই অঞ্চলে ডাকাতরাই দাপিয়ে বেড়াতো। প্রশাসন থেকে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে যারা একটু অর্থবান তারা সনাতন ডাকাতের ভয়ে সর্বদা ভয়ে ভয়ে থাকতো।দুঃসাহসী ডাকাত সর্দার ছিলেন সনাতন বাগদী। নিবিড় জঙ্গলের মধ্যে দেবী কালীর উপাসনা করতেন তিনি।তার ডাকাত দল নিয়ে বহু কিংবদন্তী প্রচলিত আছে যার একটি আজ আপনাদের বলছি।একদিন সনাতন বাগদী ডাকাতি করতে বের হবেন। অমাবস্যার রাতে মায়ের পূজা দিয়ে তবেই কাজে বেরোবে তারা। সেইমতো নানা পূজার উপাচারে সেজে উঠেছে মন্দির। এদিকে সেদিকে ছড়িয়ে বসে আছে ডাকাত দল। সবাই অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত এবং সুরাপনে মত্ত। হঠাৎ সনাতন উচ্চকণ্ঠে ‘বলি কোথায়?’ বলে চিৎকার করে উঠলো। সবাই দেখলো তাইতো। মায়ের বলীর ব্যবস্থা করা হয়নি।দলের ডাকাতেরা ভয়ে জানালো চৈত্র মাস! ঝড় বৃষ্টি লেগেই আছে! সব ওলট-পালট করে দিচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ । ঘর থেকে বের হতে পারেনি কেউ।তাই মায়ের বলীর ব্যবস্থাও করা হয়নি।সর্দার সনাতন রাগে গর্জে উঠলো ‘সে কী! চৈত্র মাস বলে মা অনাহারে থাকবেন? বলী হবেনা।না তা হবে না! গভীর রাতেই হুকুম হলো।যে ভাবে পারিস বলি ধরে আন।’ কিন্তু সেদিন ডাকাতরা তার কথা শুনলোনা কারন ডাকাতির ভাগবখরা নিয়ে আগে থেকেই দলে অসন্তোষ ছিল। সর্দারের বিরুদ্ধে তলে তলে বিদ্রোহ হচ্ছিলো আগে থেকেই।নিজের চ্যালাদের এই অবহেলায় ক্ষেপে উঠলেন সনাতন ডাকাত ।রাগে কাঁপতে কাঁপতে তিনি বললেন, “আমার আদেশ অমান্য করা! এত বড় স্পর্ধা! তোদের সবকটাকে আজ মায়ের পায়ে বলি দেব।”এই বলে হুঙ্কার দিয়ে রাগে আক্রোশে উন্মুক্ত তরবারি হাতে নিজের দলের লোকেদের ওপরেই ঝাঁপিয়ে পড়লেন ডাকাত-সর্দার সনাতন।বহু ডাকাত নাকি সেদিন তার হাতে প্রাণ হারায়। তার দল ও ক্ষমতা হারায় এবং ক্রমে ডাকাতি প্রায়বন্ধ হয়।তবে আজও ডাকাত কালীর পুজো হয় নিষ্ঠা সহকারে। দেবী খুবই জাগ্রত এবং বহু মানুষ নিজের মনোস্কামনা নিয়ে আসেন দেবীর কাছে।ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।