বাংলার ডাকাত কালী – রঘুডাকাতের কালী মন্দির

24

আর কয়েকটিদিন পরেই মৌনী অমাবস্যাতারাপীঠ সহ মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডন এর হোম যজ্ঞর আয়োজন শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই|বহু মানুষ যোগাযোগ করছেন|তার মাঝেই আজ আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে|বাংলার এই ডাকাত কালী মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম|সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন ও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|আজ বলবো সেই অলৌকিক ঘটনা|ব্রিটিশ আমলে রঘু ডাকাত ছিলো হুগলীর ত্রাস|তার ছিলো রবিনহুড ইমেজ অর্থাৎ ধনীদের লুট করে গরিব অসহায় দের সাহায্য করতো|সেকালে লোকে যমের মতো ভয় পেতো রঘুডাকাতকে|তার নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো|রাত তো দূরের কথা দিনের বেলাতেও মানুষ বেশি টাকা পয়সা নিয়ে পথ হাঁটতে ভয় পেতো|রঘু ডাকাতের অতীত সম্পর্কে শোনা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে জয় পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে তাদের আরাধ্যা মা কালীর মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত ভাই |সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়েরঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত।এসবই অবশ্য শোনা কথা বা প্রচলিত কিংবদন্তী|শোনা যায় সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মাকে দেখতে পায়। এরপর রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।সাধক রামপ্রসাদের জীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ আছে|রঘু ডাকাতের আমল থেকে আজও একই নিয়মে ও নিষ্ঠায় মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরের নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা হয় এবং পশু বলি হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে |বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়|আসন্ন মৌনী অমাবস্যা এমনই এক তিথি যেদিন বিশেষ পুজো ও জনসমাগম হবে বাংলার এই প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরে|বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন আরো অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দিরে|আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|