বাংলার ডাকাত কালী – বারাসাতের ডাকাত কালী

28

আজ আমার শহর অর্থাৎ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসাতের ডাকাত কালীর মন্দিরের কথা লিখবো।আগে বারাসাতের ইতিহাস সম্পর্কে এটুকু বলে রাখি যে সাত টি বার বা জনপদ নিয়ে গড়ে উঠেছিলো বলে এই মফস্বলের নাম হয়েছে বারাসাত। এই সাত টি জনপদের মধ্যে বেশ কয়েকটির নাম আমরা জানতে পারি যেমন ” শ্রীধরপুর, হৃদয় পুর, বনমালী পুর, প্রাসাদ পুর ও নিশ্চিন্দি পুর” ইত্যাদি|

বিখ্যাত মানিকচাঁদ যিনি ইতিহাসে জগৎ শেঠ নামে পরিচিত তার পরিবারের বারো জন সদস্য এখানে বাস করতেন বলেও শোনা যায় । তাদের মধ্যেই একজন রামচন্দ্র শেঠ বারাসাতের কেন্দ্র স্থলে একটি পুকুর নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে সেটি ” শেঠ পুকুর ” নামে পরিচিত। শহীদ তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ আমরা ইতিহাস বইতেই পাই এছাড়াও বারাসতের কিছু অদূরেই চন্দ্রকেতু গর যেখানে আছে “খনা মিহিরের ঢিবি” যা এখনও বিদ্যমান।

তবে আজকের আলোচ্য বিষয় বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির কুখ্যাত এক ডাকাত দল নাকি বারাসাতে কালী পূজা শুরু করেছিলো নবাবী আমলে । বারাসতের থেকে প্রায় দেড় দুই কিলোমিটার দূরে নদীভাগের কাছে রয়েছে তার কালী মন্দির। তবে বর্তমানে সেটিকে মন্দির না বলে পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়ি বলাই শ্রেয় তবে তার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বর্ণময়| 

লোকমুখে শোনা যায় এক সময় দুর্ধর্ষ এক ডাকাত দল শাসন করতো বারাসাতের বিস্তীর্ণ দুর্গম অঞ্চল একবার ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়ায় রাগে-ক্ষোভে মুর্তিটি তরোয়াল দিয়ে ভেঙে ফেলে ডাকাত সর্দার । পরবর্তীতে এই ভগ্ন মুর্তিকেই পুজো করত ডাকাত দল । স্বাধীনতার পরও এখানে ডাকাত সর্দারের একটি মুর্তি ছিল। যদিও পরে এটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখানে আর মুর্তি স্থাপনের সাহস দেখায়নি নানা কারনে|

স্থানীয়দের থেকে জানা যায় এই মন্দিরে নাকি ঘটেছে নানান অলৌকিক ঘটনা যেমন অমাবস্যার রাতে হটাৎ ঢাক ঢোল কাঁসরের শব্দ, অট্টহাসি বা মাঝরাতে ওই অঞ্চলে শোনাযায় নুপুরের শব্দ এই সব ঘটনা আজও অবাক করে অনেককে|
তাছাড়াও অনেকের স্বচক্ষে মাতৃদর্শনের সুযোগ হয়েছে বলেও শোনা যায়।

একসময় এখানে অষ্টধাতুর প্রতিমাকে কালিরূপে পুজো করত ডাকাতরা । ডাকাতি করার আগে নরবলি দিয়ে পাশের পুকুরে ভাসিয়ে দিত সে। এইভাবেই তারা নরবলির মাধ্যমে মাকে প্রসন্ন করত। আজও মন্দিরের পাশে রয়েছে সেই পুকুরটি। মন্দিরের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে গাছের শিকড়ে দেখা যায় একটি হাতের ছাপের মত অবয়ব। গাছের যে অংশকে কালী রূপে পুজো করা হয় সেটিও মানব দেহের নিম্নাংশের মত দেখতে|মনে করা হয় এখানে দেবী অত্যন্ত জাগ্রত এবং তার কাছে করা সব মনোস্কামনা পূরণ হয়|

সব মিলিয়ে বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির বাংলার প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরগুলির অন্যতম|ফিরে আসবো পরের পর্বে|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|