নেপাল ভ্রমণ – মনোস্কামনা মন্দির দর্শন

44

প্রথম দিনের নেপাল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিলো অনবদ্য তবে নেপাল মানেই তীর্থ যাত্রী বা পর্যটকদের স্বর্গ রাজ্য কারন এ দেশের কোনায় কোনায় লুকিয়ে আছে মন্দির ও বৌদ্ধ স্তুপ আর তাদের ঘিরে আছে অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাস|আজ গেছিলাম বিখ্যাত মনোস্কামনা মন্দিরে যাকে স্থানীয় ভাষায় অনেকেই মনকামনা মন্দির ও বলেন… সে এক দুর্গম রাস্তা…আগাগোড়া পাহাড়ি পথ দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে গাড়িতে,তারপর হেঁটে, প্রায় ৮০০ ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করে তবে পৌছালাম মূল মন্দির চত্বরে| মনোস্কামনা মন্দির নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ড‌ু থেকে পশ্চিমে ১৪০ কিলোমিটার দূরে উঁচু এক পাহাড়ের মাথায় অবস্থান করছে|১৭’শ শতাব্দীর পুরনো এই মন্দির পাহাড়ের গায়ে ১৩০২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ত্রিশুলী নদী এবং রয়েছে এক গভীর খাদ। মন্দিরের অধিষ্টাত্রী দেবী হলেন মনোকামনা দেবী।মনের অভীষ্ট কামনা পূর্ণ করেন তাই অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মনোকামনা রাখা হয়েছে।সমগ্র নেপালবাসীর কাছে দেবী অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জাগ্রত|কথিত আছে মনোকামনা দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয় তাই শুধু নেপাল নয় দেশ বিদেশ থেকেও দর্শণার্থীরা ছুটে আসেন| মনোস্কামনা মূলত দেবী ভগবতী, দুর্গা এবং কালীর মিশ্র রূপ। দেবীর মন্দিরে যাওয়ার আগে দেবীর পুজোর জন্য নিয়ে যেতে হয় ফুল, ধূপ ও লাল কাপড় কারন মন্দিরে নির্দিষ্ট জায়গায় লাল কাপড় বেঁধে, প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর কাছে নিজেদের প্রার্থনা জানান ভক্তরা। মনোকামনা দেবী খাঁটি সরল মনে চাওয়া ভক্তের প্রার্থনা সব সময় পূরণ করেন বলে মনে করা হয়| হয়তো আপনাদের ২০১৫-র ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা মনে আছে যাতে নেপালের একাধিক ঐতিহাসিক পর্যটন স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছিলো তখন ভালোরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেবী মনোস্কামনা মন্দিরটি। পরবর্তীতে সেটি সংস্কার করে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয়| দেবীর মনোকামনা কে নিয়ে বহু গল্প বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে কেউ কেউ এই মন্দির কে অন্যতম শক্তিপীঠ বলে মনে করেন যদিও এই মতের স্বপক্ষে সঠিক তথ্যের কিঞ্চিৎ অভাব আছে|আবার নেপালের অন্যতম শাসক রাম শাহের রাণী স্বয়ং মনোকামনা দেবীর অবতার ছিলেন এমনটাও বিশ্বাস করেন বহু মানুষ|  সারা বছর ভিড় থাকলেও দশহরায় দেবীর বিশেষ পূজার জন্য প্রচুর ভক্তসমাগম ঘটে। তন্ত্র মতে দেবীর পুজো হয় এখানে প্রতি অষ্টমী তিথিতে বলিদানের রীতি আজও প্রচলিত আছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ|আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং সর্বোপরি দেবী মনোস্কামনার দর্শন|সব মিলিয়ে আজকের ভ্রমণ স্বার্থক|আগামী দিনে আবার নতুন গন্তব্য আবার নতুন অভিজ্ঞতা|সবই আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|