মন্দির রহস্য – ঘড়ি বাবার মন্দির

23

ভক্তরা নিজের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে মন্দিরে আসেন ও নানা জিনিস মানত করেন কেউ দেব মূর্তির সামনে নানা সুস্বাদু খাবার নিবেদন করেন। কেউ গরিবের সেবা করে ঈশ্বরকে তুষ্ট করার চেষ্টা করেন। কেউ আবার প্রচুর সোনাদানা, রত্ন, অর্থ দিয়ে দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে চান।যেমন তিরুপতি মন্দিরে অনেকে কেশ দান করেন বা পদ্মনাভ মন্দিরে এককালে সোনাদানা দান করা হতো|শুনলে অবাক হবেন বারাণসীর জৌনপুরে রয়েছেন একে অদ্ভুত মন্দির যেখানে মন্দিরে ভগবানের পুজোতে নিবেদন করা হয় ঘড়ি। ভক্তদের বিশ্বাস, সেই মন্দিরের দেবতাকে ঘড়ি নিবেদন করলে জীবনে ভোলা সময় দ্রুত আসবে এবং দুঃসময় চলে যাবে|জৌনপুরের এই মন্দিরটি ব্রহ্ম বাবা নামেও পরিচিত তবে মন্দিরের অনন্য নৈবেদ্যগুলির কারণে, আজ এই মন্দিরটি ‘ঘড়ি বাবা মন্দির’ নামে বিখ্যাত|এই মন্দিরের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হল ঘড়ি নিবেদন। লোকে ফুল, মালা ইত্যাদি না দিয়ে মন্দিরে ঘড়ি দান করেন। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে। ব্রহ্ম বাবা বা ঘড়ি বাবার মন্দিরে এই অদ্ভুত ঘড়ি নিবেদনের প্রথা চালু হওয়ার নেপথ্যে একটি অলৌকিক ঘটনা আছে। শোনা যায় প্রায় ত্রিশ বছর আগে একবার এক ব্যক্তির খুব ভালো ড্রাইভার হয়ার ইচ্ছা জাগে। সেই মনোবাঞ্ছাপুরণ করতে তিনি ব্রহ্ম বাবা মন্দিরে যান এবং মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে মন্দিরে মানত করেন ওই ব্যক্তি।মনের ইচ্ছা কিছুদিনের মধ্যেই পূরণ হয় তারপর সেই ব্যক্তি ব্রহ্ম বাবার মন্দিরে একটি ঘড়ি নিবেদন করেন।সেই ঘটনা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই ভক্তদের বিশ্বাস হযে যায় যে ব্রহ্ম বাবা মন্দিরে ঘড়ি নিবেদন করলে মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। ​মানত পূরণ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তরা মন্দিরে ঘড়ি দিতে আসেন|মন্দিরের বাইরের গাছে, সবাই তাঁদের ইচ্ছা পূরণের জন্য একটি ঘড়ি নিবেদন করেন।মন্দির চত্বরে জমা হয়েছে ঘড়ির স্তুপ এবং আশ্চর্য জনক ভাবে ঘড়ি বাবার মন্দিরে নিবেদন করা ওই ঘড়ি আজও কেউ চুরি করে না। হয়তো ঘড়ি বাবার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধার কারনে সব ঘড়ি সুরক্ষিত থাকে এখানে|যথা সময়ে পরবর্তী পর্বে আবার ফিরে আসবো নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|সঙ্গে নিয়ে পৌরানিক ও অলৌকিক সব ঘটনার উল্লেখ|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|