দশ অবতার রহস্য – বামন অবতার

33

বিষ্ণুর মৎস ও কুর্ম অবতারের অবতারের পর আজ বামন অবতার।বামন বিষ্ণুর পঞ্চম অবতার।এবং ত্রেতাযুগে আবির্ভুত বিষ্ণুর প্রথম অবতার।প্রতিটি অবতার এর আগমনের কারন দুষ্টের দমন করে অরাজকতা এবং অন্যায়ের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করে ধর্ম ও সত্য কে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত করা|ত্রেতা যুগে অত্যাচারী দৈত্যরাজ বলিকে দমন করার জন্য বিষ্ণু বামনরূপে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। পুরাণে তার এই রূপ বামনাবতার নামে পরিচিত।মৎস্য পুরাণের অনুসারে অসুরদের দ্বারা দেবতারা পরাজিত হয়ে আশ্রয়হীন হলে, দেবমাতা অদিতি পুনরায় শক্তিশালী পুত্রের জন্য বিষ্ণুর আরাধনা করেন। আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে, বিষ্ণু তাঁকে জানান যে, তিনি কশ্যপের ঔরসে অদিতির গর্ভে জন্মগ্রহন করবেন। যথাসময়ে বিষ্ণু বামন রূপে জন্মগ্রহণ করেন|তিনি জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ভাদ্র মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বাদশী বা বিজয়া দ্বাদশী তিথিতে, শ্রবণা নক্ষত্রে অভিজিৎ মুহূর্তে। শিশুর জন্মের সাথে সাথে তাঁর দেহের দিব্য দ্যুতিতে কাশ্যপ মুনির আশ্রমের চর্তুদিক আলোয় উদ্ভাসিত হয়|পুরাণ মতে মহামতী রাজা বালী শ্রীহরি ভক্ত প্রহ্লাদের পৌত্র্র এবং বিরোচনের পুত্র ছিলেন। দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য্যের আশীর্বাদে পরম শক্তিশালী দৈত্যরাজে পরিণত হন। মহা পরাক্রমশালী রাজা বালী মর্ত্যলোক এবং পাতাল অধিকারের পর স্বর্গের রাজধানী অমরাবতীর সিংহাসনে নিজেকে আসীন দেখার জন্য নানাবিধ পরিকল্পনা করেন|যখন দেবতাদে বিরুদ্ধে লড়তে লড়তে অসুরেরা ক্রমে নিস্তেজ হয়ে পড়ে সেই সময়ের অসুর অধিপতি বলি একটি যজ্ঞের আয়োজন করলে, বামনরূপী বিষ্ণু উক্ত যজ্ঞানুষ্ঠানে গিয়ে ত্রিপাদ-ভূমি অর্থাৎ তিন পা রাখার মতো ভূমি প্রার্থনা করেন।অহংকারী অসুর রাজ বলী বলি সম্মত হয়ে ভূমি দান করলে এবং বামন অবতার রূপে বিষ্ণু তাঁর দেহবর্ধিত করে বিশাল আকার ধারণ করেন। বিষ্ণু স্বর্গে-মর্তে দুই পা রেখে নাভি থেকে তৃতীয় পা বের করেন। এই তৃতীয় পা কোথায় রাখবেন তা বলিকে জিজ্ঞাসা করলে, বলি তাঁর মাথা নত করে তৃতীয় পা রাখার অনুরোধ করেন। বিষ্ণু তৃতীয় পদ বলির মাথায় রাখার সাথে সাথে বলি বিষ্ণুর স্তব করতে থাকেন।ঠিক সেই সময়ে সময় প্রহ্লাদ এসে বলির বন্ধন মুক্তির জন্য অনুরোধ করলে, বিষ্ণু বলিকে মুক্তি দেন এবং বলি তার প্রতিজ্ঞা রক্ষার জন্য বহুকষ্ট স্বীকার করেছেন বলে, বিষ্ণু তাকে ক্ষমা করেন এবং রসাতল বা পাতাল লোক তার বাসের জন্য দান করেন।শুধু তাই নয় শ্রীবিষ্ণু ও রাজা বালীকে আশীর্বাদ করলেন যে তিনি চিরঞ্জিবী হবেন এবং দৈত্যকুলের শ্রেষ্ঠ সম্রাট এবং শ্রীহরির প্রিয়ভক্ত হিসাবে মর্ত্যলোকে পূজিত হবেন|তাই কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের প্রতিপদ তিথিতে বা বালী প্রতিপদ তিথিতে প্রতি বছর রাজা বালীর পূজা হয়|যথা সময়ে আবার আগামী পর্বে ভগবানেরপরবর্তী অবতার এবং তার বিশেষ লীলা নিয়ে ফিরে আসবো|চলতে থাকবে এই পৌরাণিক আলোচনা|যারা জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে চান সরাসরি ফোন করুন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|