দেবী লক্ষীর কথা

56

আজ লক্ষী পুজো উপলক্ষে আপনাদের জানাবো দেবী লক্ষীর উৎপত্তি এবং তার পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে নিয়ে তবে শুরু করবো বাংলার এক প্রাচীন লক্ষী মন্দিরের কথা দিয়ে|বীরভূমের এক গ্রামে রয়েছে এই প্রাচীন লক্ষী মন্দির|শুরুতেই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক এক ঘটনার কথা বলি,প্রায় পাঁচশো বছর আগে বীরভূমে এই গ্রামে আসেন পূর্ববঙ্গের এক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী কামদেব ব্রহ্মচারী। এই গ্রামের একটি নিমগাছের তলায় সাধনস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে থাকতে শুরু করেন। কিছুদিনে পর এক গ্রামবাসী দীঘির ধারে জমিতে চাষ করছিলেন সে হটাৎ দেখতে পায়,দীঘির জলে একটি পদ্মফুল ভেসে যাচ্ছে।পদ্মফুল তুলতে নেমে পড়েন দীঘিতে ফুটে থাকা পদ্মফুল দেখতে পেলেও নাগাল পান না কিছুতেই।সেই রাতে মা লক্ষ্মীর স্বপ্নাদেশ পান ওই গ্রামবাসী, ওই দীঘির জলেই নিরাকার রূপে দেবী লক্ষী অবস্থান করছেন। পর দিনই দীঘিতে নিম কাঠ ভাসতে দেখেন তুমি । সেই কাঠ তুলে এনে দেবীর নির্দেশ মতো গ্রামের নিম গাছতলায় আসন পাতা কামদেব ব্রহ্মচারীর কাছে নিয়ে যান এবং সাধক ওই নিম কাঠ থেকে লক্ষ্মীমূর্তি গড়ে তোলেন। সেই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা হয় গ্রামেই।আজও ওই মূর্তি পুজো হয় এখানে|ব্রম্মবৈবর্ত পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী উৎপন্ন হয়েছেন শ্রী কৃষ্ণের বাম দিক থেকে|বিষ্ণু পুরাণ, ভাগবত, মহাভারত প্রভৃতি গ্রন্থ অনুসারে লক্ষ্মী দেবীর উৎপত্তি হয়েছে সমুদ্র থেকে। দুর্বাসা মুনির শাপে স্বর্গ একদা শ্রীহীন বা লক্ষ্মী-ছাড়া হয়ে যায়। তখন বিষ্ণুর পরামর্শে স্বর্গের ঐশ্বর্য ফিরে পাবার জন্য দেবগণ অসুরদের সাথে নিয়ে সমুদ্র-মন্থন শুরু করেন। সেই ক্ষীর-সমুদ্র মন্থনের ফলে উঠে আসল নানা রত্ন, মণি-মাণিক্য, অমৃতসুধা আরও কত কি। এসব ছাড়াও সমুদ্র-মন্থনের ফলে উঠে আসলেন লক্ষ্মী লক্ষ্মী দেবী এবং ঠাই পেলেন বিষ্ণুর বক্ষে। সমুদ্র থেকে দেবীর উদ্ভব বলে দেবীকে বলা হয় সমুদ্রোদ্ভবা|শাস্ত্র মেনে সঠিক উপাচার পালন করে দেবী লক্ষীর আরাধনা করুন তিনি আপনাদের প্রার্থনা শুনবেন|আপনাদের সবাইকে আমার তরফ থেকে লক্ষীপুজোর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|