কুমারী পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

29

শাস্ত্র মতে দূর্গাপুজোর অন্যতম অঙ্গ কুমারী পুজো|দেবী দুর্গার আরাধনার সময়ে যে কুমারী পুজো হয় তার আলাদা তাৎপর্য রয়েছে|আজকের পর্বে কুমারী পুজো ও তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে লিখবো জানাবো কুমারী পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|সন্ধি পুজোর ন্যায় দূর্গাপূজার একটি বিশেষ অধ্যায় হল কুমারী পূজা।বাংলায় এই বিশেষ আচার অনুষ্ঠানকে প্রথম প্রাধান্য দিয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। ১৯০১ সালে স্বামী বিবেকানন্দ বেলুড় মঠে দুর্গাপূজার শুরু করেন |সেই প্রসঙ্গে পরে আসছি|আগে কুমারী পুজোর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা শুনে নেয়া উচিত|শাস্ত্রমতে কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুর বধ করার মধ্য দিয়ে।পুরানে রয়েছে, বানাসুর এক সময় স্বর্গ-মর্ত্য অধিকার করায় বাকি বিপন্ন দেবগণ মহাকালীর শরণাপন্ন হন। সে সকল দেবগণের আবেদনে সাড়া দিযে় দেবী পুনর্জন্মে কুমারীরূপে আবীরভূতা হয়ে কোলাসুরকে বধ করেন। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পূজার প্রচলন শুরু হয়।কুমারীরা শুদ্ধতার প্রতীক হওয়ায় মাতৃরূপে ঈশ্বরের আরাধনার জন্য কুমারীকন্যাকে নির্বাচন করা হয়। হিন্দু শাস্ত্রে ১ থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্পবালাকে কুমারী বলা হয়। বয়স অনুযায়ী ১ বছর বয়সী কন্যাকে সন্ধ্যা ২ বছর বয়সী কন্যাকে স্বরসতী, ৩ বছর বয়সী কন্যাকে ত্রিধা ৪ বছর বয়সের কন্যাকে কালিকা ৫ বছর বয়সী কন্যাকে সুভগা, ৬ বছর বয়সী কন্যাকে উমা, ৭ বছর বয়সী কন্যাকে মালিনী, ৮ বছর বয়সী কন্যাকে কুব্জিকা, ৯ বছর বয়সী কন্যাকে অপরাজিতা, ১০ বছর বয়সী কন্যাকে কালসন্ধর্ভা, ১১ বছর বয়সী কন্যাকে রুদ্রাণী, ১২ বছর বয়সী কন্যাকে ভৈরবী, ১৩ বছর বয়সী কন্যাকে মহালক্ষ্মী ১৪ বছর বয়সী কন্যাকে পীঠনায়িকা, ১৫ বছর বয়সী কন্যাকে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ১৬ বছর বয়সী কন্যাকে অম্বিকা বলা হয়। তবে কুমারী পূজার জন্য সাধারণত ৫ থেকে ৭ বছরের কুমারীকন্যাকে মনোনীত করা হয়।কুমারী পূজার দার্শনিক তত্ত্ব বা অন্তর্নিহিত অর্থ হলো নারীতে পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যে ত্রিশক্তির বলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় ক্রিয়া সাধিত হচ্ছে, সেই ত্রিবিধ শক্তিই বীজাকারে কুমারীতে নিহিত। কুমারী প্রকৃতি বা নারী জাতির প্রতীক ও বীজাবস্থা। তাই কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়।দক্ষিনেশ্বরে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শী জ্ঞানে পূজা করেছিলেন।পরবর্তীতেবেলুড় মঠে প্রথম দুর্গা পুজোর সময়ে বিবেকানন্দ একসঙ্গে অনেক কুমারীর পুজো করেছিলেন। এখন সেখানে একজন কুমারীকেই অষ্টমীর সকালে নিষ্ঠা ভরে পুজো করা হয়।বাংলার বহু বনেদি বাড়ি ও বারোয়ারী পুজোতেও কুমারী পুজোর প্রচলন রয়েছে।আসন্ন মহালয়া অমাবস্যা তিথিতে মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজো বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে|আপনারা চাইলে সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|দূর্গা পুজো উপলক্ষে আরো অনেক এমন বিশেষ পর্ব আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো আগামী দিনগুলিতে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|