দশমহাবিদ্যা – দেবী ভুবনেশ্বরী

83

দশমহাবিদ্যার পঞ্চম রূপ ভুবনেশ্বরী। তন্ত্র শাস্ত্রে জানা যায়, মহাদেবের উপর অভিমান ও রাগে দেবী ষোড়শী রূপ ধারণ করেন এবং শিবের বক্ষে নিজের এই নতুন রূপের ছায়া দেখে নিজেই ভীত হন। পরে সেই ছায়া নিজের জেনে স্থির হন। দেবীর এই সুস্থির রূপ ভুবনেশ্বরী রূপে চিত্রিত হয়েছে। এই দেবীর গায়ের রং জবা ফুলের মতো। চার হাতে অস্ত্র ও বরাভয় মুদ্রা। চার দিকে চার জন দেবী এই দেবীকে ঘিরে আছেন। দেবীর আরও সহচরী আছে।দেবী ভুবিনেশ্বরী জগদ্ধাত্রী রূপেও পূজিতা হন বহু স্থানে|পুরান অবুসারে ত্রিদেব অর্থাৎ ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরকে ভুবনেশ্বরী দেবী শক্তি প্রদান করে থাকেন। ব্রহ্মাকে তিনি সরস্বতী, বিষ্ণুকে তিনি লক্ষ্মী এবং মহেশ্বরকে মহাকালী প্রদান করেন। সকল প্রাণীর স্রষ্টা-ও তিনি। শ্রীকৃষ্ণ এবং বলরামের বোন সুভদ্রাকে মনে করা হয়, দেবী ভুবনেশ্বরীর অবতার।মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরুতে দেবী ভুবনেশ্বরী গোপাল সুন্দরীর জন্ম দেন। আর তারপর তাঁর মাধ্যমেই জগৎ রক্ষার দায়িত্ব পালন করেন। এই গোপাল সুন্দরী স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ। দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, তিনি পঞ্চ প্রকৃতির মাধ্যমে প্রকাশিত হন। এই পঞ্চ প্রকৃতি হলেন, দুর্গা লক্ষ্মী, সরস্বতী, গায়ত্রী এবং রাধা। শেষপর্যন্ত এঁরা ভুবনেশ্বরী দেবীতে বিলীন হন। যাঁকে আদি পরাশক্তি বলা হয়েছে।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দেবী ভুবনেশ্বরী হলেন শুক্রের ইষ্টদেবী|শুক্র সংক্রান্ত যেকোনো দোষ বা শুক্রের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পেতে দেবী ভুবিনেশ্বরী সহায়|সেক্ষেত্রে আগামী কৌশিকী অমাবস্যা তিথি শ্রেষ্ট তিথি|আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যা তন্ত্র এবং কৌশিকী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক তথ্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|