কালীকথা- ফল হারিণী অমাবস্যা ও তারাপীঠ

68

শাস্ত্র মতে কালকে যিনি হরণ করেন তিনি কালী। কালের কবলে পড়ে বিনাশ হয়নি এমন বস্তু এই জগতে নেই। তাই কালের সঙ্গে কালীর সম্পর্ক চিরন্তন চিরসত্য এবং চির মাধুর্যময়। এই কালকে শাসন ও নিয়ন্ত্রণ করেন দেবী কালী আর দেবী কালী যে রূপে কর্ম ফল হরন করে সাধককে বা ভক্ত কে মুক্তি ও শান্তি প্রদান করেন তা ফলহারিণী রূপ|যদিও আক্ষরিক অর্থে গাছের ফলের সাথে ফল হারিণী অমাবস্যার সম্পর্ক নেই তবে যেহেতু জ্যৈষ্ঠমাসে আম, জাম, লিচু, কাঁঠাল ইত্যাদি নানারকম ফলের মরসুমি ফল পাওয়া যায় এবং সাধক তাঁর ইষ্টদেবীকে বিভিন্ন ফল দিয়ে প্রসাদ নিবেদন করে থাকেন।কৌশিকী অমাবস্যার পাশাপাশি তারাপীঠে এদিন বিভিন্ন ফল দিয়ে দেবীর পুজো করা হয়। ফল এখানে প্রতীক। সাধকের কর্ম-রূপ ফল। দেবীর চরণে এদিন ভক্ত তাঁর জীবনের সব কর্মফল নিবেদন করেন।বিভিন্ন ফল দিয়ে মালা গেথে দেবীকে পড়ানো হয় এই তিথিতে|বহুকাল থেকে চলে আসছে এই প্রথা|বামা ক্ষেপার সময়েও ধূম ধাম করে ফল হারিণী কালী পুজো অনুষ্ঠিত হতো তারাপীঠ মন্দিরে|শোনা যায় সে সময় মহামারী, অনাবৃষ্টি বা বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে মানুষ এই তিথিতে কালী পুজো করতো।কথিত আছে দশ মহাবিদ্যার অন্যতম দেবী তারা এবং এই মাতৃরূপা মহাশক্তি প্রসন্না হলে জীবের দুঃখ ও দুর্দশা থেকে মুক্তি মেলে। সেই সঙ্গে শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভ হয়।তাই ফল হারিণী কালী পুজোয় তারাপীঠে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও মাতৃ সাধক|এবছর আমি নিজেও তারাপীঠে উপস্থিত থাকবো ফলহারিণী অমাবস্যা তিথিতে|চলতে থাকবে কালী কথা আগামী পর্ব গুলিতে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে আরো অনেক কথা বলবো সঙ্গে আরো কিছু কালী মন্দির ও সেখানকার ফল হারিণী কালী পুজো নিয়ে বলবো|পড়তে থাকুন|আগামী ফলহারিণী অমাবস্যা তারাপিঠে যারা দোষ খণ্ডন করাতে চান যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|