পুরানকথা- মৎস পুরান ও বাস্তু দেবের জন্ম

166

জ্যোতিষ শাস্ত্রর ন্যায় বাস্তু শাস্ত্র ও অত্যন্ত ও জনপ্রিয় ও কার্যকরী একটি শাস্ত্র যা আমাদের জীবন কে নানা দিক থেকে সরাসরি প্রভাবিত করে,বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র যেমন জন্ম নিয়েছে বেদের একটি অংশ থেকে তেমনই বাস্তু শাস্ত্রের জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ পুরান থেকে এবং এর সাথে জড়িয়ে আছে একটি রোমাঞ্চকর পৌরাণিক ঘটনা|মৎস অবতার বিষ্ণুর প্রথম অবতার আর সেই অবতার নিয়েই মৎস পুরান তাই নানা দিক থেকে এই পুরান টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ |মৎস্য পুরাণ অনুযায়ী, প্রথম মহাপ্রলয়ের সময় জীবকুলকে রক্ষা করতে ভগবান বিষ্ণু মৎস অবতার রূপে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। আজ থেকে বহু যুগ আগে দক্ষিণ ভারতে এই পুরান জ্যোতিষ এর অন্যতম শাখা বাস্তু শাস্ত্রের সূচনা করে কারন বাস্তুদেবতার উৎপত্তি এই পুরানেই লিপিবদ্ধ হয়েছে|বাস্তু দেবতার পূজার্চনার ব্যাপারে একটি মজার ঘটনার উল্লেখ মেলে মৎস্য পুরানে ।মৎস পুরানে উল্লেক্ষিত পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী অনেকদিন আগে অন্ধক নামে এক অসুরের সাথে দেবাদিদেব মহাদেবের অনেক বছর ধরে যুদ্ধ হয় এবং অবশেষে মহাদেব শিব অসুরকে বধ করেন । দেবতা শিব যখন অসুরকে বধ করেন তখন তার শরীর নির্গত ঘাম থেকে এক মহাত্মার জন্ম হয় । যিনি অন্ধকাসুর এবং তার যোদ্ধা গণের সমস্ত রক্ত পান করেন । কিন্তু তবুও সেই মহাত্মার খুদা শান্ত না হওয়াতে, তিনি দেবাদিদেব মহাদেবের তপস্যা করেন । ভোলা মহেশ্বর তপস্যাতে তুষ্ট হয়ে বর প্রদান করেন আর সেই বর পেয়ে মহাত্মা ভূলোকে এসে সমস্ত প্রাণীদের খেতে শুরু করেন ।মহাত্মার এই ভয়ঙ্কর রূপ দেখে দেবতা, দানব, রাক্ষস এবং সমস্ত প্রাণী আতঙ্কিত হয়ে পরম পিতা ব্রহ্মাকে স্মরণ করেন । ব্রহ্মদেব তখন মহাত্মাকে পেট পেতে উপুড় হওয়ার পরামর্শ দেন এবং ব্রহ্ম দেবের পরামর্শ মেনে মহাত্মা তাই করেন । ব্রহ্মদেবের পরামর্শ অনুযায়ী ৮১ জন দেবতা মহাত্মার পেটের ভেতর বিভিন্ন অংশে গিয়ে বসলেন ।ব্রহ্মা মহাত্মার প্রার্থনায় অবিভূত হয়ে তাকে বর দিলেন যে – নতুন বাস ভবনের নির্মাণের আগে যদি কেউ তোমাকে বাস্তুদেবতা বলে মেনে পুজো করে এবং অন্নদান করে তাহলে তুমি তাকে সুখ সমৃদ্ধি দিয়ে ভরিয়ে তুলবে কিন্তু যদি কেউ তোমার পুজো না করে নতুন ঘরে বসবাস শুরু করে তবে তুমি তাকে ভক্ষণ করতে পারবে, এমনকি তাকে লাঞ্ছনাও দিতে পারবে ।আজও এই নীতি মেনেই ভারতবর্ষে বাস্তু পূজা হয় ও বাস্তু দেব কে সন্তুষ্ট করা হয় |চলবে পুরান কথা|পুরানের এমন আরো অনেক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|