রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

7

রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ রাধাষ্টমী|প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরবর্তী অষ্টমী তিথি রাধাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়| এটি কৃষ্ণ সঙ্গিনী শ্রীরাধার পবিত্র জন্মতিথি।

আজ রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

আপনাদের জন্য উপস্থাপনা করবো।

 

মথুরার পবিত্র বারসনা শ্রীরাধার জন্মস্থান। রাজা বৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী কীর্তি স্বর্ণপদ্মের উপর শ্রীরাধাকে পেয়েছিলেন বলে কথিত আছে।

সূর্য দেব বিষ্ণুর বর প্রাপ্ত হয়ে বৃষ ভানু রূপে জন্মে রাধাকে তাদের কন্যা রূপে পেয়েছিলেন|রাজা শ্রীবৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীকীর্তি তাঁদের কন্যা হিসাবে রাধা-কে বড় করেছিলেন। রাধা বিভিন্ন শাস্ত্রে শ্রী কৃষ্ণর সর্বোচ্চ শক্তি রূপে বর্ণিত হয়েছেন।

 

বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থে সরাসরি রাধা নাম না উল্লেখিত হলেও শ্রী রাধাকে কোথাও ‘কৃষ্ণবল্লভা’ কোথাও ‘কৃষ্ণাত্মা’ আবার কোথাও কৃষ্ণপ্রিয়া ‘বলে অভিহিত করা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনিগুলিতে এমন একটি বিবরণ পাওয়া যায় যে, কৃষ্ণ রূপে অবতার নেওয়ার আগে ভগবান শ্রীবিষ্ণু তাঁর ভক্তদেরও পৃথিবীতে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় বিষ্ণু প্রিয়া লক্ষ্মীও রাধা রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন।

 

এবার অনেকের মতে রাধা এবিং কৃষ্ণ একই।

একই শক্তির দুই ভিন্ন প্রকাশ। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। রাধা কৃষ্ণর বিবাহ প্রসঙ্গে বলা হয় স্বয়ং ব্রম্হা তাদের বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন।

 

রাধাষ্টমী উপাসনা পদ্ধতি সহজ সরল|সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন।ঠাকুরের স্থানে লাল বা হলুদ কাপড় পেতে তার উপরে, শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধার মূর্তিটি স্থাপন করুন এবং শাস্ত্র মতে পূজো এবং আরতি করুন।

শাস্ত্র মতে রাধাষ্টমী পালন করলে। মনোস্কামনা পূরণ হয়। দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।রাধাষ্টমীর উপবাস করলে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন।

 

আপনাদের সবাইকে রাধাষ্টমীর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো পুরান কথা নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।