প্রভু জগন্নাথের গজবেশ এবং কালিয়া দমন বেশ

9

প্রভু জগন্নাথের গজবেশ এবং কালিয়া দমন বেশ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন স্নান যাত্রা উপলক্ষে আজ থেকে প্রভু জগন্নাথকে নিয়ে লিখবো। ধারাবাহিক ভাবে।

প্রভু জগন্নাথের রাজ বেশ জগৎ বিখ্যাত। তবে তাছাড়াও নানা সময়ে নানা বেশে তিনি অবির্ভুত হন।আজ জগন্নাথ দেবের বিশেষ দুই বেশ গজ বেশ এবং কালিয়া দমন বেশ নিয়ে আজ লিখবো।

 

গজ বেশ বা হাতিবেশ রথযাত্রার আগে স্নান যাত্রার সময় দেখা যায় । এই সময়ে গণপতির বেশে জগন্নাথকে সাজানো হয় বলে নাম ‘হাতি বেশ’। এই গজ বেশের নেপথ্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আছে|বহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন পণ্ডিত গণেশ ভট্ট। রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা গণপতি স্বয়ং তিনি আর কারুর প্রতি আগ্রহী নন । তবে রাজার অনুরোধে স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট আবিষ্কার করেন জগন্নাথ গণেশ রূপেই তাকে দেখা দিয়েছেন।ভক্ত যে রূপে চান সেই রূপেই ভগবান ধরা দেন। জগন্নাথের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্রম্ভান্ড বিরাজমান এই সত্য উপলব্ধি করে গণেশ ভট্ট জগন্নাথের ভক্ত হয়ে ওঠেন।সেই ঘটনার পর থেকেই স্নান যাত্রায় জগন্নাথের গজ বেশ বেশ হয়।

 

পুরীর জগন্নাদেবের বিভিন্ন বেশের মধ্যে অন্যতম হল কালিয়াদমন বেশ। ভাদ্র একাদশীর দিন পুরীর জগন্নাথকে সাজানো হয় এই বিশেষ বেশে। যেভাবে শ্রীকৃষ্ণ দুর্দমনীয় রাক্ষস কালিয়াকে হত্যা করেছিলেন সেই বেশেই এদিন সাজানো হয় জগন্নাথকে।শ্রী কৃষ্ণ এবং জগন্নাথ দেব এক এবং অভিন্ন। শ্রী কৃষ্ণ ব্রহ্ম পদার্থ রূপে জগন্নাথ মূর্তিতে বিরাজমান আবার অনেকের মতে জগন্নাথ দেব স্বয়ং বামন অবতার তাই কৃষ্ণ রূপে এই বিশেষ বেশে তার পুজো করার যথেষ্ট কারন আছে।

 

প্রভু জগন্নাথের মহিমা এবং প্রভুর নানা লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।