গুরু কথা – স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

6

গুরু কথা – স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ গুরু কথায় আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে নিয়ে লিখবো।

 

সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।উনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী দার্শনিক এবং সনাতন ধর্মের প্রচারক

ভারতে সামাজিক এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন

সংস্কার মূলক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।বর্তমান গুজরাটের কাঠিয়ার নামক স্থান ছিল তাঁর জন্মস্থান।বাল্যকালে তাঁর নাম ছিল শঙ্কর তেওয়ারি। কর্শানজি লালজি তিওয়ারি ছিলেন তাঁর পিতা এবং মাতার নাম ছিল যশোদাবাঈ।

 

মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেন।পরবর্তী সময়কাল সত্যের সন্ধানে একজন সন্ন্যাসী হয়ে কাটান। সন্ন্যাস জীবনে গুরু হিসাবে তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ব্রিজানন্দর এবং গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি সনাতন সমাজে বেদের আদর্শকে পুনঃস্থাপনের ব্রত নেন।

 

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মূল বাণী ছিল, ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’। এই আদর্শেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন।তাছাড়া আর্য সমাজের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি শুদ্ধি আন্দোলনও শুরু করেছিলেন। যে সমস্ত হিন্দুরা নানা কারণে ধর্মান্তরিত হতেন, শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরায় তাঁদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হত।এই ভাবে বহু সনাতনীর পুনরুদ্ধার করেন স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতি এবং তার আর্য্য সমাজ।

 

বৈদিক সাহিত্যের প্রচারের জন্য তিনি স্কুল এবং কলেজ স্থাপন করেন, ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন।পত্রিকার মাধ্যমে সামাজিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলতেন।

 

নারী স্বাধীনতা এবং সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির ক্ষমতায়নের পক্ষেও তিনি বহু কাজ করেন।

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী মনে করতেন, বৈদিক শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের সমাজ এবং সভ্যতার পুনর্জাগরণ সম্ভব। এজন্য তিনি অসংখ্য গুরুকুল স্থাপন করেন। পুরুষ-নারীদের আলাদা আলাদা গুরুকূল তিনি স্থাপন করেছিলেন।

 

তৎকালীন পরাধীন ভারতে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্যও তিনি সক্রিয় ছিলেন । তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি স্বরাজ কথাটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।ঊনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী মাত্র ৫৯ বছর বয়সে ৩০ অক্টোবর ১৮৮৩ সালে প্রয়াত হন।

 

আজও তার আদৰ্শ এবং কর্ম কান্ড নিয়ে এগিয়ে

চলেছে তাঁর আর্য্য সমাজের ভক্ত শিষ্যরা। আজ

এই মহান গুরুকে প্রনাম জানাই।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আবার গুরু কথা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।