লৌকিক দেব দেবী – মাসান ঠাকুর
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আগের কয়েকটি পর্বে আপনাদের দক্ষিণ বঙ্গের কিছু বিখ্যাত লৌকিক দেব দেবীর কথা লিখেছি। আজ লিখবো উত্তর বঙ্গের প্রসিদ্ধ মাসান
ঠাকুরের কথা।
মাশান ঠাকুর অনেকের কাছে দেবী কালীর সন্তান আবার অনেকে মনে করেন তিনি ধর্ম ঠাকুরের মানস পুত্র।কোচবিহারের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে মাশান ঠাকুর অত্যন্ত জাগ্রত এবং জনপ্রিয়।
কোথাও কোথাও প্রেত দেবতা বা অপদেবতা জ্ঞানেও পুজো করা হয় মাশান ঠাকুরকে মূলত ভাদ্রমাসে তার পূজো হয় তাছাড়াও সারা বছর এমনকী দীপান্বিতা অমাবস্যাতেও কোথাও কোথাও পুজো পান তিনিও।তার ভক্তরা মনে করেন যাঁকে তুষ্ট না রাখলে সর্বনাশ এবং তিনি তুষ্ট থাকলে সব বিপদ দুর হবে।
মনে করা হয় ভাদ্রমাসের শনিবারে মাসান ঠাকুরের জন্ম। জলে জন্ম তার জন্ম এবং এবং জন্মের পর মাসানের নাড়িকুণ্ডলী জলে ফেলে দেয়। সেখান থেকে কলমী শাকের জন্ম হয়। মাসান বাবাকে সম্মান জানাতে ভক্তরা ভাদ্র মাসে কলমীশাক খায় না।
মাসান দেবতা সর্ব ক্ষেত্রেই বিকট দর্শন। কোথাও বুকেই চোখ,মুখ, বিরাট জিহ্বা এবং ভয়াল চোখ।রয়েছে ভুঁড়ি এবং ক্রুর দৃষ্টি। কোথাও মাছের পিঠে আসীন। কোথাও শূকরপৃষ্ঠে।
মোট ১৮ প্রকার মাসান পুজো পান এই বঙ্গে। তাঁদের রয়েছে আলাদা আলাদা কাজ এবং বাসস্থান। তারা হলেন যথাক্রমে –
১) বাড়ীকা মাসান
২) তিসিলা মাসান
৩) ঘাটিয়া মাসান
৪) চুঁচিয়া মাসান
৫) চালান মাসান
৬) বহিতা মাসান
৭) কাল মাসান
৮) কুহুলীয়া মাসান
৯) নাঙ্গা মাসান
১০) বিষুয়া মাসান
১১) ওবুয়া মাসান
১২) শুকনা মাসান
১৩) ভুলা মাসান
১৪) ড্যামশা মাসান
১৫) অঙ্গিয়া মাসান
১৬) ছলনার মাসান
১৭) ন্যাড়া মাসান
১৮) কলি মাশান
মাসান ঠাকুরের ভক্তরা তাকে ভক্তিও করেন।
ভয় ও পান। তাই নিষ্ঠা সহকারে তার পূজো হয়ে
আসছে যুগ যুগ ধরে এই বঙ্গে।
ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে।
ধারাবাহিক ভাবে এই লেখনী চলতে।
থাকবে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
