শিবের নীল কণ্ঠ রূপ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শিবের নানা রূপ। নানা অবতার। একাধিক রূপ নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি শিব সংক্রান্ত ধারাবাহিক পর্ব গুলিতে। আজ শিবের নীল কণ্ঠ রূপ নিয়ে লিখবো।
পুরান মতে দেবাদিদেব শিবের অপর নাম নীলকণ্ঠ বা নীল কারন সমুদ্র মন্থণের সময় উঠে আসা বিষ পান করে তার কণ্ঠ নীল বর্ণের হয়ে যায়।যখন অমৃতের সন্ধানে ভয়ঙ্কর হলাহল বিষ উঠে আসে সমুদ্র গর্ভ থেকে তখন সেই বিষের প্রভাবে সমস্ত প্রাণী জগৎ বিপদগ্রস্ত হয়। শিব হলেন সংহার কর্তা। বিপদ এবং অনিষ্ট নাশ করেন তিনি।এবারেও তাঁরই ডাক পরে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করতে। শিব সমস্ত বিষ পান করেন। বিষের প্রভাবে কণ্ঠ নীল হয়ে যায়।রক্ষা পায় সৃষ্টি। কণ্ঠ নীল হওয়ায় শিবের নাম হয় নীল কণ্ঠ।
আবার এই নীল কণ্ঠ রূপের অন্য একটি
ব্যাখ্যাও হয়। বৈষ্ণবদের একাংশ মনে করে যে নীল হলেন নীল মাধব শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং। শিব পরম বৈষ্ণব। পরম হরি ভক্ত। সর্বদা তাঁর কণ্ঠে হরি নাম থাকে। তিনি সর্বদা হরির ধ্যানে মগ্ন থাকেন। তাই নীল বর্ণের কৃষ্ণকে সর্বদা কণ্ঠে ধারণ করার জন্য তিনি নীল কণ্ঠ। অর্থাৎ এই নীল বিষ নয় নীল বর্ণের অর্থ শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং।
নীল ষষ্টিতে নীল কণ্ঠ রূপের পূজো হয়।
শাস্ত্র মতে এই তিথিতে শিবের সঙ্গে নীলচণ্ডিকা বা নীলাবতী পরমেশ্বরীর বিয়ে উপলক্ষ্যে লৌকিক আচার-অনুষ্ঠান সংঘটিত হয় । দক্ষযজ্ঞে দেহত্যাগের পর সতী পুনরায় নীলধ্বজ রাজার বিল্ববনে আবির্ভূতা হয়ে ছিলেন ৷ এরপর রাজা তাঁকে নিজের মেয়ের মতো করে বড় করে শিবের সঙ্গে ফের বিয়ে দেন ৷ সেই বিবাহের তিথি উদযাপন করা হয় নীল পূজায়।
সবাইকে নীল পুজোর আগাম শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
