কালী কথা – দেবী চৌধুরানীর কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দেবী চৌধুরানী বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ঐতিহাসিক চরিত্র যাকে নিয়ে ছড়িয়ে আছে বহু ঘটনা এবং জনশ্রুতি।জলপাইগুড়ি জেলার গোশালা মোড়ের দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দির সেই ঐতিহাসিক চরিত্রের সাক্ষী বহন করে চলেছে আজও।প্রায় আড়াইশো বছর থেকে এই পুজো হয়ে আসছে। রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস। আজ এই মন্দিরের কথা জানাবো কালী কথায়।
এক কালে এই শ্মশানকালী মন্দিরে পুজো দিয়ে গিয়েছিলেন দেবী চৌধুরানী ৷ সেই কারণেই পরবর্তীকালে এই মন্দিরের নাম দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দির দেওয়া হয়। আবার অনেকে বলে থাকেন উত্তরবঙ্গে দেবী চৌধুরানীর একাধিক ডেরা ছিল তার মধ্যে এটি অন্যতম। তিস্তা দিয়ে বজরায় করে যাতায়াত এর সময়ে একাধিক বার নাকি দেবী চৌধুরানীর আগমন ঘটে এই স্থানে।
সেকালে প্রায় সব ডাকাতদলই দেবী কালীর পূজো করে ডাকাতি করতে যেতো। ভবানী পাঠক বা দেবী চৌধুরানীরাও ব্যতিক্রমী ছিলেন না তাই খুবই স্বাভাবিক যে এই মন্দিরে আসা যাওয়া ছিলো দেবী চৌধুরানীর।
আজও এখানে পূজো হয় তন্ত্র মতে এবং একাধিক বিশেষ রীতি নীতি আজও অপরিবর্তিত আছে।
দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দিরে দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়, বোয়াল মাছ, শোল মাছ ও মাংস দিয়ে।
দেবী চৌধুরানীর শ্মশানকালী মন্দিরের আরো বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে মিশে পুজোর সব দায়িত্ব ভার গ্রহন করেন।সে দিক দিয়ে দেখতে গেলে গোশালা মোড়ের এই দেবী চৌধুরানী শ্মশানকালী মন্দির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য পীঠস্থান হয়ে উঠেছে ৷
আবার ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্বে অন্য এক মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে। থাকবে আরো অনেক তথ্য এবং জনশ্রুতি।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
