অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্যা

7

অষ্টসিদ্ধি এবং নব নিধীর ব্যাখ্য

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে
“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস এবং নব নিধী হলো নয়টি অমূল্য সম্পদ।আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো এই অষ্টসিদ্ধি এবং নব
নিধীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

অষ্ট সিদ্ধির প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়।

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়।

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়।

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়।

পঞ্চম সিদ্ধি হলো প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে।

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে।

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে।

বশিত্ব হলো অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি যা অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়।

এবার আসি নবনিধির দিকে। এই নব নিধী বলতে বলতে নয়টি বিশেষ অলৌকিক রত্ন বা ঐশ্বর্যকে বোঝায়। নবনিধির অন্তর্ভুক্ত নয়টি রত্ন বা সম্পদ হলো যথাক্রমে পদ্ম,মহাপদ্ম,শঙ্খ, মকর,কচ্ছপ, মুকুন্দ,কুন্দ,নীল এবং খর্ব।এই নয়টি সম্পদ যে শুধু মূল্যবান পার্থিব বস্তু তা নয়। এগুলি অসীম জ্ঞান এবং আধ্যাত্মিক চেতনা যা বজরংবলীর অধিকারে ছিলো এবং প্রভু রামের সেবায় থাকা কালীন তিনি অষ্ট সিদ্ধি এবং নব নিধী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ভাবে
ব্যবহার ও করেছেন।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।