দেবী অন্নপূর্না এবং কাশী ধাম
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আগামী ২৬ এ মার্চ মা অন্নপূর্ণার পূজা। আজ থেকে আগামী দুদিন দেবী অন্নপূর্ণা প্রসঙ্গে শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক আলোচনা দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করবো।দিন প্রথম দিন দেবী অন্নপূর্ণার কাশী ধামের সম্পর্ক নিয়ে লিখবো।
কাশীকে শিবের নগরী বলা হলেও কাশী আসলে অন্নপূর্ণা দেবীর স্থান। কাশীর অধিস্টাত্রী দেবী হলেন অন্নপূর্ণা।পুরান মতে এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে|তার আবির্ভাব নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় শাস্ত্রে।
পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে একবার দেবাদিদেবের কোনো কারণনে গুরুতর মতবিরোধে দেখা দিলে দেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। সাথে সাথে ভয়ানক মহামারি, খাদ্যাভাব দেখা দেয়।ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও অভাব ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবীর লীলা বুঝতে পারেন মহাদেব। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ নিতে কাশীতে আসেন। দেবী তাকে অন্ন ভিক্ষা দেন। সেই অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন মহাদেব।
ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়। দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরেক রূপ দেবী অন্নপূর্ণা সুখ সমৃদ্ধি ও অন্নর দেবী। তার উপস্থিত থাকলেই সংসারে বা জগতে সুখ সমৃদ্ধি থাকে। তার অনুপস্থিতি ঘটলেই দেখা দেয় অশান্তি, অভাব এবং দারিদ্রতা।
দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণের পর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী।
পুরান মতে শিবের ত্রিশূলে অবস্থিত কাশী ধাম দেবী অন্নপূর্ণার আবাস তাই কেউ কাশীতে অভুক্ত অবস্থায় থাকেন না। কাশীতে সবার ভরণ পোষণের দায়িত্ব নিয়েছেন স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা।
তিনি অন্নদাত্রী।তাই অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদা।
শাস্ত্র মতে কাশী শাস্বত এবং সর্বকালীন। কাশী মহা প্রলয়ের পরেও বিরাজমান থাকবে।স্ব মহিমায় কাশীধামে বিরাজ করবেন দেবী অন্নপূর্ণা।
কাশী ধামে যারা তীর্থ করতে যান বাবা কাল ভৈরব, বিশ্বনাথ এবং অন্নপূর্ণার দর্শন করলে তবেই কাশী যাত্রার সম্পূর্ণ ফল লাভ হয় বলে বিশ্বাস।
দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর পর দরিদ্রকে অন্ন দান করলে জীবন থেকে সব অভাব দূর হয়।
দেবী অন্নপূর্ণা কতৃক মহাদেবকে অন্নদানের ছবি বা মূর্তি যে গৃহে থাকে সেই অন্নর অভাব হয়না বলেও শাস্ত্রে আছে।
আসন্ন অন্নপূর্ণা পূজো উপলক্ষে চলতে থাকবে এই বিশেষ ধারাবাহিক পর্বগুলি। ফিরে আসবো আগামী পর্বে দেবী অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক আলোচনা নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
