শিব অবতার – বৃষভ অবতার

7

শিব অবতার – বৃষভ অবতার

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্র মতে শিবের উনিশটি অবতারের মধ্যে একটি বৃষভ অবতার।স্বভাবে এবং আকৃতিতে তেজি এবং শক্তিশালী হলেও এটি শিবের উগ্র রূপের থেকে ভিন্ন, শান্ত ও জ্ঞানী রূপ।আজকের পর্বে শিবের এই বিশেষ অবতার নিয়ে লিখবো।

 

বিভিন্ন শাস্ত্রে বৃষভ অবতার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়।কিছু শাস্ত্র মতে বৃষভ নামে বিষ্ণুর এক অবতার আছে যাকে বৃষভদেব বলা হয় আবার এই পরিচয়ে এক জৈন তীর্থঙ্কর রয়েছেন তবে শিব পুরাণে মতে শিবের বৃষভ অবতার দেবাদিদেব মহাদেবের উনিশটি অবতারের অন্যতম।

 

একটি পুরান কাহিনী মতে একবার পাতাল লোকে বিষ্ণুর এক পুত্র জন্মায় ।পরবর্তীতে শ্রীবিষ্ণুর এই সন্তান যখন গোটা সৃষ্টি ধ্বংস করতে উদ্যত হয়। ব্রহ্মার অনুরোধে বৃষভ নামে ষাঁড়ের রূপ নিয়ে বিষ্ণুর এই সন্তানকে হত্যা করেন মহাদেব।অহংকার এবং অত্যাচারের অবসান ঘটাতে এই অবতারের আবির্ভাব হয়।

 

বিরাট আকার এবং নীল বর্ণের এই রূপ কুর্ম পুরান, লিঙ্গ পুরান এবং শিব পুরানে স্থান পায়। কোথাও উনিশটি আবার কোথাও আঠাশটি শিব পুরানের অন্যতম তিনি।

 

শিবপুরাণ অনুসারে শিবের এই অবতার হলো মহাদেবের একটি শান্ত ও দয়ালু রূপ। বৃষভ রূপে নিবৃত্তি বা ত্যাগের পথ প্রচারের জন্য অবতীর্ণ হন মহাদেব । বৃষভ অবতার শিবের অন্যতম কোমল ও সৎ রূপ হিসেবে পরিচিত। তবে এই রূপেও তিনি তার সংহার কার্য সম্পন্ন করে জগৎ রক্ষা করেছেন।অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করেছেন।

 

শাস্ত্রে আরো আছে যে দ্বাপর যুগের শেষে শিব বৃষভ রূপে অবতীর্ণ হন।এই অবতারের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ত্যাগের পথ প্রচার করা।পরাশর, গর্গ, ভার্গব এবং গিরিশ এই চার জন ঋষিকে শিবের বৃষভ অবতারের প্রধান শিষ্য রূপে ধরা হয়।

 

ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতারে কথা নিয়ে। থাকবে অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।