কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

6

কৃষ্ণ কথা – কৃষ্ণ ও সুদামা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণকে নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সখা এবং ভক্ত সুদামার প্রসঙ্গ উঠবেই।আজকের পর্বে এই দুই জনের বন্ধুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো।শুধু প্রেম নয়। শত্রু দমন বা অধর্ম নাশ নয়।শ্রী কৃষ্ণ রূপে ভগবান তার ভক্তদের

সাথে বন্ধু রূপে মিশেছেন।সেই বন্ধুদের অন্যতম সুদামা।

 

বৃন্দাবনের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সুদামা এবং ভগবান কৃষ্ণ ছিলেন সহপাঠী আচার্য সন্দীপনের আশ্রমে অধ্যয়ন শেষ করে কৃষ্ণ এবং সুদামা উভয়েই শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ নিজ গৃহে চলে যান। পরবর্তীতে যেখানে কৃষ্ণ দ্বারকা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন অন্যদিকে সুদামা দারিদ্র্যতার জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন । এতো কিছুর পরেও তার ভক্তি, অনুরাগ এবং কৃষ্ণপ্রেম অব্যাহত ছিল।

 

সংসার জীবনে প্রায়শই সুদমার বাচ্চারা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বহু বছর পরেও কৃষ্ণের প্রতি সুদামার ভালোবাসা কমেনি এবং প্রভুর গল্প তার বাচ্চাদের শোনাতেন। তার স্ত্রী সুশীলা একবার তাকে জোর করে ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে পাঠান।

 

দরিদ্র বেশে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত সুদামা দ্বারকায় পৌঁছেন।দ্বারকার সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে সুদামা কৃষ্ণের দুর্গ খুঁজতে থাকেন। রক্ষীরা তাকে অপমান করে দুর্গে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।কীভাবে একজন ভিক্ষুকের সাথে কৃষ্ণর বন্ধুত্ব থাকতে পারে তা ভেবে তারা অবাক।

 

এদিকে কৃষ্ণের আগমনের খবর পৌছায় দ্বারকার অন্দর মহলে।সুদামা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন শুনে কৃষ্ণ সরাসরি মূল ফটকের দিকে দৌড়ে গেলেন। কৃষ্ণের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে কৃষ্ণ সুদামাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সিংহাসন অর্পণ করেন । তিনি তার অশ্রু দিয়ে সুদামার পা ধুয়ে দিলেন। বসালেন স্ত্রী রুক্মিণীর আসনে। কিছু দিন সেবা এবং আতিথ্য গ্রহন করে সুদামা জাগতিক কিছু না চেয়ে খালি হাতেই ফিরে এলেন।

 

সুদামা গ্রামে ফিরে দেখলেন তার পুরানো এবং ভাঙা কুঁড়েঘরটি একটি জমকালো প্রাসাদে রূপান্তরিত হয়েছে। স্ত্রীও রাজ রানী হয়েছেন। দারিদ্রতার অভিশাপ মুছে গেছে।সুদামা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি তাঁর লীলা ধর , তাঁর প্রিয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লীলা। শ্রী কৃষ্ণ পরম করুণাময়। সুদামা এই সত্য বুঝতে পারলেন।

শ্রী কৃষ্ণের বিভিন্ন লীলার মধ্যে এই লীলাটি নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ।

 

দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে আবার ধারাবাহিক কৃষ্ণ কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।