কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং দ্বারকা নগরী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং ভগবান। তিনি রাজা রাজার রাজা রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হন অধর্ম থেকে জগৎ সংসারকে রক্ষা করতে। স্বাভাবিক ভাবেই রাজার একটা রাজপ্রাসাদ থাকবেই। শ্রী কৃষ্ণের রাজ ধানী বা রাজপ্রাসাদ ছিলো দ্বারকা নগরী।
শ্রী কৃষ্ণের দ্বারা কংস বধের পর কংসের শ্বশুর, মগধের রাজা জরাসন্ধ কৃষ্ণের উপর রেগে যান ও এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মথুরা আক্রমণ করেন। একাধিকবার যুদ্ধ হয়। অবশেষে কৃষ্ণ তার লোকদের নিয়ে মথুরা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং নতুন এক নগরী তৈরির সিদ্ধান্ত নেন|এই নগরীই ছিলো দ্বারকা নগরী।
দ্বারকা নগরী প্রতিষ্ঠার জন্য কৃষ্ণ দেব শিল্পী ‘বিশ্বকর্মার’ সাহায্য নেন। বিশ্বকর্মা কৃষ্ণকে জানান, যদি সমুদ্রের দেবতা ‘সমুদ্রদেব’ তাদেরকে কিছু জমি প্রদান করেন শুধুমাত্র তবেই এ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। কৃষ্ণ তখন সমুদ্রদেবের পূজা করেন এবং সমুদ্রদেব খুশি হয়ে কৃষ্ণকে ১২ যোজন জমি প্রদান করেন। জমি পাওয়ার পর বিশ্বকর্মা সেখানে দ্বারকা নগরী নির্মাণ করেন।
দ্বারকা ছিলো মূলত একটি দ্বীপ-নগর। চারপাশে বেষ্টিত জলরাশি দ্বারকাকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতো।পুরান থেকে ও বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে জানা যায়, পুরো দ্বারকা নগরী মোট ৬টি ভাগে বিভক্ত ছিল। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা, চওড়া রাস্তা, নগরচত্বর, সোনা, রূপা ও দামী পাথর দিয়ে নির্মিত বিশাল বিশাল প্রাসাদ, জনগণের সুযোগ সুবিধার জন্য নানা স্থাপনা সহ নানা উদ্যান ও লেক ইত্যাদি নিয়ে গড়ে উঠেছিল দ্বারকা নগরী। প্রায় ৭ লক্ষ ছোটবড় প্রাসাদ ছিল এ নগরীতে। এখানে ছিল ‘সুধর্ম সভা’ নামের এক বিশাল হলঘর, যেখানে নানা ধরনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হতো।
কুরুক্ষেত্র পরবর্তী সময়ে কৃষ্ণ তার বাকি জীবন এই দ্বারকা নগরীতেই অতিবাহিত করেছিলেন। শ্রী কৃষ্ণের মৃত্যুর পর গোটা দ্বারকা নগরী এক বিশাল বন্যায় সমুদ্রের গভীরে হারিয়ে যায়|
গুজরাট সংলগ্ন সুমুদ্রই প্রাচীন কালে দ্বারকা নগরীর স্থান ছিলো বলে মনে করা হয়। বর্তমানে
যেখানে দ্বারকা নগর গড়ে উঠেছিলো বলে শাস্ত্রে আছে বাস্তবে সেই অঞ্চলেই পাওয়া গেছে কৃষ্ণের সময়ের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসস্তুপ যা আরো একবার পুরান ও ইতিহাসকে মিলিয়ে দিচ্ছে
এক সূত্রে।
শ্রী কৃষ্ণের জীবন নিয়ে রহস্যর শেষ নেই|আবার আগামী পর্বে নতুন বিষয় নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
