বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজার সুবর্ণ যুগ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলায় দূর্গাপুজো প্রথম শুরু হয় বনেদি বাড়ি গুলিতে। বিশেষ করে উত্তর কলকাতার সমৃদ্ধ জমিদার বাড়ি গুলিতে। পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সেই পুজোর সুবর্ণ যুগ বলা যায় কারন সেই সময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাথে সু সম্পর্ক স্থাপন করতে এই পরিবার গুলি দূর্গা পুজো খুব ধুম ধাম করে করতো এবং সাহেবদের আমন্ত্রণ করে সুনাম অর্জন করতো।
তবে শুধু তাই নয়। নিজেদের মধ্যে সম্পদ এবং ক্ষমতা নিয়ে প্রতিযোগিতা বা প্রভাব বিস্তারের জন্যও দূর্গাপুজোর জাঁকজমককে বেছে নিতো কেউ কেউ। এর মধ্যে শাস্ত্র বা ধর্মকে যে প্রাধান্য দেয়া হতোনা তা নয়। পুজো হতো শাস্ত্র মেনে নিষ্ঠা সহকারে। বহু বনেদি বাড়িতেই ভক্তি ছিলো প্রধান আর মা দুর্গার প্রতি অমোঘ আস্থা।
পুরোনো বাংলার বিশেষ করে কলকাতার পুজো নিয়ে একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিলো। যেখানে বলা হতো মা দাঁ বাড়িতে সাজতে আসেন।মিত্র বাড়িতেখেতে আসেন এবং শোভাবাজারে মনরঞ্জনের জন্য আসেন।
আসলে পরিবারের এই সদস্য সাজতে ভালোবাসতেন। ঠিক করেছিলেন মাকেও সাজাবেন। সেই মতো ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে বিশেষ কাজ করা অলঙ্কার ও পোশাক আনালেন ঠাকুরকে পরানোর জন্য। সেই সাজ হয়ে উঠলো বিখ্যাত।অন্যদিকে মিত্র বাড়িতে মাকে নিবেদন করা হয় ৩০ থেকে ৫০ মণ চালের নৈবেদ্য। এছাড়াও থাকে নানা রকম মিষ্টি, গজা, নিমকি,লুচি, রাধাবল্লভীর ইত্যাদি খাবার।আবার শোভা বাজার রাজ বাড়িতে টানা ১৫ দিন ধরে চলতো এই নাচ গান যাত্রার আসর বসতো পুজো উপলক্ষে।
আগামী পর্বগুলিতে এই বাড়ি গুলির পুজো
নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো।
তবে শুধু কলকাতা নয়। বাংলার বহু বনেদি জমিদার বাড়ির পুজোর রয়েছে এমন বর্নময় ইতিহাস। সেসব নিয়ে চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
