জমিদার বাড়ির দুর্গা পূজো – মল্ল রাজবাড়ির দুর্গা পূজো

8

জমিদার বাড়ির দুর্গা পূজো – মল্ল রাজবাড়ির দুর্গা পূজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বিষ্ণুপুরের হাজার বছরের পুরনো মল্ল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস অতি প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। আজ আপনাদের এই পূজো সম্পর্কে জানাবো।

 

বিষ্ণুপুরে মল্ল রাজবাড়িতে নয়টি তোপধ্বনির মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পুজো শুরু হয়।

শোনা যায় এই রাজপরিবারের পূর্ব পুরুষদের প্রথম রাজধানী ছিল জয়পুরের পদ্যুঘ্নগড়। মল্লরাজা জগত মল্লকে এক রাতে মা মৃণ্ময়ী রাজাকে স্বপ্নাদেশ দেন যে, আমি এখানকার মাটিতে রয়েছি। আমাকে প্রতিষ্ঠা কর। তারপর রাজা সেখানেই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেন। আজও গঙ্গামাটির সেই বিগ্রহ অক্ষত রয়েছে এবং

পূজো হয়

 

প্রথা মেনে বড়ঠাকুরানী মহাকালী রূপে, মেজো ঠাকুরানী মহালক্ষ্মী রূপে এবং ছোট ঠাকুরাণী মহা সরস্বতী রূপে পূজিতা হন।

 

মল্ল রাজবাড়ির পুজো হয় নিজস্ব নারায়নী পদ্ধতিতে। প্রাচীন হাতে লেখা পুঁথি আজও অমলিন। যা পাঠ করেই সম্পূর্ণ করা হয় মল্লরাজপরিবারের পুজো। প্রথা অনুযায়ী পূজোর শুরুতে বিল্লবরণ অনুষ্ঠান হয়। ওইদিন দেবী সারারাত বেলগাছে থাকেন তারপর সকালে স্থানীয় গোপালসায়রে স্নান করানোর পর পটের দেবী বড়ঠাকুরানীকে শাস্ত্রীয় আচার মেনে মৃন্ময়ী মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়।

 

জনশ্রুতি আছে মল্লরাজার প্রধান সেনাবাহিনীর মধ্যে একজন ছবি আঁকতে খুব পছন্দ করতেন। তাঁর আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে রাজপরিবারের পুজোয় তাঁকে পট আঁকার দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধরেরা একইভাবে রাজবাড়ির পুজোয় পটের দেবী আঁকেন।

 

পুজোর আরো একটি বিশেষত্ব হল অষ্টমীর দিনে সন্ধিপুজোয় রাজবাড়িতে থাকা অষ্টধাতু দিয়ে তৈরি বিশালাক্ষ্মী উগ্রচণ্ডা মূর্তির বিশেষ পূজো হয়।স্বর্ণচাঁপা ফুল দিয়ে অঞ্জলি দেওয়া হয়। দশমীর দিন ঘট বিসর্জনের পর রামচন্দ্রের পুজো, অপরাজিতা বন্ধন এবং নীলকন্ঠ পাখি উড়িয়ে এবং দইয়ের মধ্যে চ্যাং মাছ ছেড়ে পুজো সমাপ্তি করা হয়।

 

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে প্রায় অপরিবর্তিত আছে মল্ল রাজ বাড়ির পূজো যা দেখতে আসেন বহু মানুষ।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি জমিদার বাড়ির পূজো নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।