জমিদার বাড়ির পূজো – বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গা পূজো

6

জমিদার বাড়ির পূজো

বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গা পূজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার জমিদার বাড়ির বা রাজবাড়ি দুর্গাপূজো নিয়ে লেখা শুরু করেছিলাম কলকাতার একটি ঐতিহ্যসম্পন্ন বনেদি বাড়ির পূজো দিয়ে। আজ আপনাদের নিয়ে যাবো উত্তরে। জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির প্রাচীন দুর্গা পূজো নিয়ে আজকের পর্ব।

পাঁচশো বছরের বেশি প্রাচীন এই দুর্গাপূজো
জেলার রাজবাড়ির পূজো গুলির মধ্যে অন্যতম।
কালিকাপুরাণের বিধি মেনে অনুষ্ঠিত হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রাচীন আচার, স্বতন্ত্র প্রতিমার রূপ এবং নিজস্ব পুজোর রীতি এই পূজোর বিশেষত্ব।

এখানে দেবী তপ্ত কাঞ্চনবর্ণা। এখানে সিংহের পাশাপাশি বাঘ দুর্গার বাহন।দুর্গা পূজোর সময়ে প্রতি বছর রূপোর অস্ত্রসজ্জায় সজ্জিত করা হয় দেবীকে।প্রতি বছর নন্দ উৎসবে কাঠামো পুজোর মধ্যে দিয়ে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত মাটি দিয়েই তৈরি করা হচ্ছে দেবী প্রতিমা।

পূজো পদ্ধতিতেও রয়েছে বিশেষত্ব।
এখানে মাকে মাছের বিভিন্ন পথ দিয়ে আমিষ ভোগ দেওয়া হয়ে পাশাপাশি দেবী দুর্গার সঙ্গে পূজিত হন গঙ্গা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, মহামায়া এবং দুই সখী জয়া ও বিজয়া।পূজোর সময় একটি রথের মধ্যে সাজিয়ে রাখা হয় দেব দেবীদের।অষ্টমীর রাতে অর্ধরাত্রির পুজো এই বাড়ির পূজোর আরেকটি বিশেষত্ব।

শোনা যায় অতীতে নরবলির প্রচলন ছিলো বর্তমানে চালের গুঁড়ো দিয়ে মানুষের অবয়ব তৈরি করে কুশ দিয়ে বিদ্ধ করার একটি বিশেষ আচার পালন করা হয়।

যুগ বদলেছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে।জমিদারি প্রথার অবসান হয়েছে।বদলেছে উৎসবের ধরন, কিন্তু বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর স্বাতন্ত্র্য আজও অমলিন।আজও ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের টানে
বহু দর্শণার্থী এই পূজো দেখতে আসেন।

ফিরে আসবো পরবর্তী জমিদার বাড়ির দুর্গা
পূজোর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।