কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র 

11

কৌশিকী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে তন্ত্র মন্ত্র এবং যন্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। এই সবের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক স্থান এবং তিথির উপরে। সেদিক দিয়ে কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র শক্তি প্রয়োগের শ্রেষ্ঠ তিথি।

 

শুধু হিন্দু মতে নয়, বৌদ্ধ মতেও তন্ত্র সাধনার জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ|সহজ ব্যাখ্যার কৌশিকী অমাবস্যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করার একটি ধর্মীয় উৎসব যা মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে দেশের শক্তি উপাসকদের দ্বারা যুগ যুগ ধরে|

 

তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা তিথি তারানিশি রূপে পালিত হয়|আজ আপনাদের কৌশিকী অমাবস্যা ও তারাপীঠ এবং তন্ত্র শাস্ত্রের সম্পর্ক নিয়ে বলবো|

 

তারা পীঠ ও দেবী তারার সাথে এই কৌশিকী অমাবস্যা ওতপ্রোত ভাবে জড়িত তার কারন দশ মহাবিদ্যার অন্যতম মা তারা এই তিথি তে মর্ত ধামে আবির্ভূত হন|তারাপীঠ শ্মশানে জ্যোতিরূপে বাস করেন মা তারা|কৌশিকী অমাবস্যায় এই স্থানেই সাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন বশিষ্ঠ দেব এবং বাবা ক্ষেপা|প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে এই উপলক্ষে বিশাল উত্‍সব হয়|দেশ বিদেশ থেকে তান্ত্রিকরা আসেন এই পবিত্র তিথিতে তন্ত্র ক্রিয়া সম্পন্ন করে নিযেদের কার্য সিদ্ধি করতে।

 

তন্ত্রে কৌশিকী অমাবস্যার অর্থ হল তারা নিশি।তন্ত্র মতে অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা এই অমাবস্যায় করলে আশাতীত ফল মেলে|তন্ত্র শাস্ত্র মতে সাধনার মাধ্যমে সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে ও সীমাহীন ক্ষমতার অধিকার লাভ করে।

তন্ত্র মতে এই তিথিতে এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দরজা মুহূর্তের জন্য খোলে ও সাধক নিজের ইচ্ছা মতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি গ্রহন করেন ও সিদ্ধি লাভ করেন|।

 

জ্যোতিষ জগতেও এই তিথির আলাদা গুরুত্ব আছে তন্ত্র মতে বা পূজা ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহের অশুভ প্রভাব কাটাতে এই এই কৌশিকী অমাবস্যা সব থেকে কার্যকর সময় হিসেবে গণ্য হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|মনে করা হয় এই দিন তারাপীঠে পুজো দিলে সকল মনোস্কামনা পুর্ন হয় এবং পুজো দিয়ে দ্বারকা নদীতে স্নান করলে শত জন্মের পুন্যলাভ হয়|

 

আগামী পর্ব গুলিতে কালী কথায় কৌশিকী অমাবস্যা, তন্ত্র এবং জ্যোতিষ জগতের আরো অনেক তথ্য এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।