কালী কথা – সাত ভাইয়ের কালী পুজো 

5

কালী কথা – সাত ভাইয়ের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় আপনাদের এককালের অবিভক্ত বাংলার একটি প্রসিদ্ধ ডাকাত কালী পূজোর কথা জানাবো।যে পুজো সাত ভাইয়ের পুজো নামে খ্যাত।অবশ্য সাত ডাকাতের পূজো বললেও ভুল বলা হয়না কারন সাত ভাই ছিলো ডাকাত এবং তারাই শুরু করে এই কালী পূজো।

 

এই পুজোর ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং বর্ণময় অবিভক্ত বাংলার যশোরের কাছে বাস করতো এক পরিবার। সাত ভাইয়ের পরিবারে সবাই ছিলো ডাকাত।জলে জঙ্গলে ঘেরা এই অঞ্চল তখন দাপিয়ে বেড়াতো এই সাত ভাইয়ের ডাকাত দল। শোনা যায় তাদের নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো।

 

এক বার যশোর জমিদার বাড়িতে ডাকাতি করতে যায় সাত ভাই দল।সেখানেই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।শোনা যায়, ডাকাতি করে ফেরার সময় ডাকাতদের উদ্দেশ্যে সেই বাড়ির মন্দিরের কালীঠাকুর বলেছিলেন, ’’ তোরা সব কিছু নিয়ে যাচ্ছিস, আমাকে নিবি না?’’ এই শুনে ডাকার দল কালীঠাকুরকে সঙ্গে নিয়ে যায়।

 

কিন্তু কোথায় রাখবে দেবীপ্রতিমাকে এবং কেই বা করবে পুজো।শেষ পর্যন্ত আলোচনা করে প্রায় তিনশো কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে বনগাঁর ইছামতি নদীর ধারে এসে হাজির হল ডাকাত দল। বন-জঙ্গলে ঘেরা বট গাছের নীচে

প্রতিষ্ঠা করা হল কালীমূর্তি তারপর দেবীপুজোর জন্য ডাকাত দল পুরোহিতের খোঁজে বের হয়। স্থানীয় এক চক্রবর্তী পুরোহিতকে খুঁজে পায় তারা

সেই পরিবারের এক ব্রাহ্মণ সন্তান

পুজোর ভার নেন।

 

সেই থেকে চলে আসছে এই সাত ভাইয়ের পুজো।অতিক্রান্ত হয়েছে কয়েকশো বছর। আজও সেই চক্রবর্তী পরিবারই বংশপরম্পরায় পুজো করে আসছেন।এখন বহু মানুষে এখানে আসেন পুজো দিতে। নিজেদের মনোস্কামনা জানাতে।এই স্থান এখন এক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ কালী তীর্থে পরিণত হয়েছে।

 

বাংলায় যেমন কালী মন্দিরের অভাব নেই তেমনই এই সব কালী মন্দির বা কালী পুজো নিয়ে গল্প এবং অলৌকিক ঘটনার কোনো অভাব নেই।

ফিরে আসবো পরের পর্বে কালী কথা নিয়ে

এখনো অসংখ্য কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা বাকি আছে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।দেখতে থাকুন।