গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
প্রথমেই সবাইকে গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানাই আজকের এই পুন্য তিথিতে স্মরণ করবো যোগীরাজ শ্যামা চরণ লাহিড়ীকে। যাকে সবাই লাহিড়ী মহাশয় বলেই জানেন।
ভারতের ক্রিয়াযোগের জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যোগী রাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী।সংসার ধর্ম পালন করেও যে আধ্যাত্মিক মার্গে সফল ভাবে হাঁটা যায় এবং সাধনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো যায় তা হাতে কলমে প্রমান করে দিয়েছেন এই মহান আধ্যাত্মিক গুরু।
ব্রিটিশ ভারতবর্ষে 1895 সালে নদীয়া জেলায় এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামচরণ। তার জীবন ছিলো আর পাঁচটা সাধারণ গৃহস্ত বঙ্গ সন্তানের মতোই। চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। একবার কর্মসূত্রে তাকে যেতে হয় হিমালয়ের পাদদেশে এক এলাকায় এর এখানেই ঘটে এক অদ্ভূত ঘটনা।একদিন পাহাড়ে চলার সময় তিনি তাঁর গুরু কিংবদন্তী স্বরূপ মহাবতার বাবাজির দেখা পেলেন।মহাবতার বাবা শ্যামাচরণ কে ক্রিয়া যোগের কৌশলগুলো শিখিয়ে দিলেন এবং দীক্ষা দিলেন।দীক্ষার পর চললো কঠোর অনুশীলন ধীরে ধীরে শ্যামচরণ হয়ে উঠলেন যোগীরাজ শ্যামাচরণ।
পরবর্তীতে গৃহস্ত জীবনে থেকে তিনি সাধনা করেছেন। অসংখ্য ভক্ত শিষ্য হয়েছে। ঘটিয়েছেন বহু অলৌকিক ঘটনা যা নিয়ে আজও আলোচনা হয়।
শোনা যায় একবার তাঁরই এক শিষ্যা অভয়া গুরুর সঙ্গে দেখা করতে হাওড়া থেকে বারাণসী আসছেন। মালপত্র নিয়ে ছুটতে ছুটতে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই দেখলেন, বারাণসী এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে স্টেশনেই বসে পড়লেন তিনি। আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন। চূড়ান্ত হতাশ অভয়া তখন অঝোরে কাঁদছেন আর গুরুদেব শ্যামাচরণ লাহিড়িকে স্মরণ করছেন।হটাৎ অভয়া দেখলেন, ট্রেন থেমে গিয়েছে।ড্রাইভার ও গার্ড ও অবাক তৎক্ষণাৎ মালপত্র নিয়ে দৌড় দিলেন তিনিও। অভয়া ট্রেনে ওঠা মাত্র থেমে যাওয়া বারাণসী এক্সপ্রেস আবার গড়গড় করে চলতে শুরু করল।বারাণসী পৌঁছে অভয়া তাঁর গুরুদেবের কাছে গেলেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা মাত্র যোগীরাজ শ্যামাচরণ বললেন, ‘ট্রেন ধরতে গেলে একটু সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হয় মা,অত বড়ো ট্রেনকে কি আটকে রাখা যায়?গুরুর অলৌকিক ক্ষমতায় দেখে অবাক হলেন শিষ্যা অভয়া।
এমন অনেক অলৌকিক কীর্তি ছড়িয়ে আছে তাঁর জীবনে।বলা হয় তিনি যোগ বলে সুক্ষ দেহে যেখানে খুশি যেতে পারতেন।তাঁর ভক্ত শিষ্যদের মনের কথা পড়তে পারতেন। স্বপ্নে দেখা দিতে পারতেন।ক্রিয়া যোগের দ্বারা তিনি বহু অসাধ্য সাধন করেছেন।যদিও বাইরে থেকে তাঁকে দেখে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বোঝা যেতোনা।
আজও তাঁর দেখানো পথে হাটছেন তাঁর দীক্ষিত এবং বহু ভাব শিষ্য তাঁদের কাছে তিনি প্রকৃত যোগীরাজ অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন এক মহান গুরু।
গুরু পূর্ণিমার অনেক শুভেচ্ছা
জানাই।এমন অনেক আরো গুরুর কথা
নিয়ে লেখা বাকি আছে।ফিরে আসবো
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
