মাসির বাড়ি থেকে ফিরে জগন্নাথদেবকে কেন লক্ষ্মীদেবীর অভিমান ভাঙাতে হয়? এই ঘটনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য কী?

6

জগন্নাথদেবের উল্টো রথের তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা|বছরে দুবার এই সুযোগ আসে রথের দিন এবং তারপর উল্টো রথের দিন।

আজ উল্টো রথ। অর্থাৎ জগন্নাথের পুরী মন্দিরে প্রত্যাবর্তন এর দিন।

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ জগন্নাথ মাসির বাড়ি মানে সমুদ্রোপকূলবর্তী জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে|যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত।

 

জনশ্রুতি আছে এই দিন মন্দিরে ঢুকতে গেলেই লক্ষ্মী দেবী সটান মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন কারণ তিন ভাইবোন মাসির বাড়ি থেকে আনন্দ করে এসেছেন অথচ তাঁকে নিয়ে যাননি। অভিমানী লক্ষ্মী দেবী এই কয়দিন একা একা শ্রীমন্দিরে ছিলেন। সেই থেকে তিন দিন এরকম ভাবেই বাইরে থাকে রথ সহ বিগ্রহ। এই তিন দিন পালিত হয় কিছু অনুষ্ঠান তারপর মহালক্ষীর মান ভঞ্জন হলে পুনরায় মন্দিরের রত্ন বেদিতে স্থান পান জগন্নাথ শুভদ্রা এবং বলরাম।

 

একাধিক শাস্ত্রীয় উপাচার আছে এই উল্টো রথ নিয়ে।সাধারণত উল্টো রথে যখন জগন্নাথ ফিরে আসেন এই যাত্রাকে বহুদা যাত্রা বলা হয়। এরপর আছে অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজয়। অধরপানায় জগন্নাথকে বিশেষ পানীয় পান করানো হয়। সেটাকে ঘিরেও উৎসব হয় । এর পরদিন নীলাদ্রি বিজয় উৎসব হয়। এক হিসেবে এই দিনেই রথযাত্রা শেষ হয়।

 

উল্টো রথ উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথ

সহ সুভদ্রা-বলরাম ও সেজে ওঠেন নানা সোনার

গয়নার সাজে।এই বেশ কে সোনা বেশ বলা হয়।

মন্দিরে ফিরলে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে

নিবেদন করা হয় কয়েকশ হাড়ি রসগোল্লা নানা রকম মিষ্টান্ন সর্বশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসবের

মাধ্যমে শেষ হয় এই সমস্ত রীতি -রেওয়াজ এবং তার পর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম কে মন্দিরের

মূল রত্নবেদি-তে তোলা হয়।

 

আপনাদের সবাইকে উল্টোরথের শুভেচ্ছা জানাই ফিরে আসবো আগামী পর্বে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ ধারাবাহিক লেখা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।