শক্তিপীঠ কামাখ্যা

4

শক্তিপীঠ কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শক্তিপীঠ বা একান্ন পীঠ নিয়ে আগেও বহুবার লিখেছি তবে এই অম্বুবাচির বিশেষ সময়ে কামাখ্যা পীঠ নিয়ে কথা না লিখলেই নয় কারন অম্বুবাচি কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব। অম্বু বাচির সময়ে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক এবং তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।

 

বলা হয় একসময় এ জায়গায় কেউ গেলে আর ফিরে আসত না। এখনো উচ্চ মার্গের তন্ত্র সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে এমনকি বহু বিদেশী আক্রমকারীও কামাখ্যা অঞ্চলকে এড়িয়ে যেতো বলে শোনা যায়।

 

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মায়ের মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল।কামাখ্যাকে বলা হয় তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান।

 

মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ।আবার পুরান অনুসারে এই স্থানে নরকাসুর এবং দেবী কামাখ্যাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন বশিষ্ট দেব এবং এই স্থানেই শিবের অভিশাপে নিজ রূপ হারিয়ে পুনরায় নিজের স্বরূপ ফিরে পেয়েছিলেন কামদেব।

 

যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে সতীর অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার শ্রী অঙ্গের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠেছিলো এবং নিচের দিকের কিছুটা পাতালে প্রবেশ কোরেছিলো।রঙ ও পরিবর্তন হয়।

আজও সেই অবস্থাতেই আছে।

 

নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরে গর্ভগৃহ ছাড়াও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির।

এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।

দেবীর ভৈরব একজন নয় নয়জন।তাই মনে করা হয় সুদূর অতীতে কোনো এক সময়ে হয়তো এখানে নয়টি শক্তিপীঠ ছিলো। যদিও এখন একটি শক্তিপীঠ ই জনসমক্ষে অবস্থিত।

 

কামাখ্যা পীঠ এবং অম্বুবাচি সংক্রান্ত আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং তথ্য নিয়ে

ফিরে আসবো আবার পরবর্তী

সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।