লৌকিক দেবতা – কালু রায়
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দক্ষিণ বঙ্গ বা বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলে একাধিক লৌকিক দেব দেবীর পূজো হয়ে আসছে বহু প্রাচীনকাল থেকে।যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের কথা আপনাদের আগেও বলেছি।এই অঞ্চলের আরো এক প্রসিদ্ধ লৌকিক দেবতা হলেন বাবা কালু রায়।
দক্ষিণরায় যেমন বাঘের দেবতা কালু রায় তেমনই কুমিরের দেবতা।সুন্দরবন মানেই জলে কুমির এবং বাঘ। দুদিকেই বিপদ। বাঘের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ যেমন বন বিবি বা দক্ষিণ রায়ের পূজো দিতো তেমনই কুমিরের হাত থেকে রক্ষা পাবার বিশ্বাসে কালু রায়ের পুজো দেওয়া হয়।
মূলত মৎসজীবি জেলেরা, কাঠুরেরা বা মধু ভাঙতে যাওয়া মানুষেরা কালু রায়ের পূজো দিতো।একটি জনশ্রুতি অনুযায়ী একবার দক্ষিণরায় এবং বড়খাঁ গাজী নামে আরেক লৌকিক দেবতার ভীষণ যুদ্ধ লেগেছিলো। সেই যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি স্থাপন করতে আবির্ভাব হয় কালু রায়ের।
কিছু দক্ষিণ রায়ের মন্দিরে একই সাথে কালু রায়েরও পূজো হয়। আবার কোথাও গোলাকার প্রস্তরখন্ড এই দেবতার প্রতীকরূপে স্থাপন করে পূজো দিতে দেখা যায়।খুব কম কিছু স্থানে কালু রায়ের মূর্তি দেখা যায়। মূর্তিতে হাতে টাঙ্গি তরোয়াল এবং পিঠে তির ধনুক নিয়ে যোদ্ধার সাজে বিরাজ করেন কালু রায়।
কালুরায়ের মন্দির সেভাবে দেখা যায় না, গাছের তলাতেই তার পূজা হয়। মন্দির খুব কম সংখ্যকেই আছে। বছরে একবার বড় করে কালু রায়ের পূজো এবং বাৎসরিক উৎসব হয়। নৈবেদ্য রূপে ফলমূল, কলা, আতপচাল দেওয়া হয়।জাতি ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবাই এই উৎসবে মেতে ওঠেন।
ফিরে আসবো আগামী আগামী পর্বে। থাকবে শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক নানা বিষয়
নিয়ে উপস্থাপনা । পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
