লৌকিক দেব দেবী – বড়াম দেবী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ লৌকিক দেব দেবীর এই পর্বে আপনাদের ঝাড়গ্রাম এলাকার বড়াম দেবীর কথা জানাবো।
শুধু ঝাড়গ্রাম নয়। বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া সহ মেদিনীপুরের কিছু স্থানে এই পূজো হয় বহু প্রাচীন কাল থেকে।
কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন বড়াম’ নামকরণ হয়েছে ‘বুড়ি’ থেকে। যেহেতু এটি মহিলা দেবতা।
দেবীকে বৃদ্ধা রূপে কল্পনা করে পূজো করা হয় তাই এই রুপ নাম করণ।
বড়াম দেবীর কোনো নিদ্দিষ্ট রূপ নেই সাধারণত একটি শিলা খন্ডে প্রান প্রতিষ্টা করে সিঁদুর দিয়ে চোখ নাক এঁকে তার পূজো করা হয়।এককালে মূলত আদিবাসীরাই বড়াম দেবীর পূজো করতো।
বড়াম সাধারণত গ্রাম বা অরণ্যের রক্ষাকত্রী।গ্রামের মানুষ তাঁদের পোষা গৃহপালিতদের এবং পরিবেশ বাঁচানোর জন্য শরণাপন্ন হত বড়াম
দেবীর কাছে।
বড়ামের নাম ও স্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন কোথাও বড়াম চণ্ডী, আবার কোথাও বড়াম বুড়ি আবার কোনো স্থানে বড়াম মাঈ বলা হয়ে থাকে।
বড়াম দেবীকে দেবী দুর্গা বা দেবীর চন্ডীর লৌকিক রূপ হিসেবে দেখা হয়।আবার অনেকের কাছে তিনি বন দুর্গা বা জয় দুর্গা যা দুর্গারই রূপ।
কিছু স্থানে বড়াম দেবীর পূর্ণাবয়ব মূর্তি বানিয়েও পূজো হয়। সেখানে বাঘের পিঠে পা ঝুলিয়ে বসে থাকতে অথবা অথবা বাঘের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন দেবী। ঠিক যেনো সিংহ বাহিনী
মা দুর্গা।
প্রাচীন কাল থেকে প্রচলিত বড়াম পূজায় কোনো মন্ত্র বা শাস্ত্রীয় রীতি নীতি নেই। ভক্তদের বিশ্বাস, ভক্তি আর শ্রদ্ধাই সব।পৌষ সংক্রান্তির রাতে বড় করে বড়াম পূজা হয়।পূজোর দিন বড়াম থানে পোড়ামাটির হাতি ঘোড়া দেওয়া হয়।পুজোতে নৈবেদ্য রূপে শুয়োর, ছাগল, মুরগি বলিও করা হয়।কোথাও কোথাও চাল ভাজা। ফল, ফুল এবং মহুয়ার ফুল থেকে নির্মিত মদ ব্যবহার করা হয় বলেও শোনা যায়। জাতি, ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই বড়াম পুজোয় অংশ গ্রহন করেন এবং আনন্দ উৎসবে মেতে ওঠেন।
ফিরে আসবো লৌকিক দেব দেবীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। চলতে থাকবে এই
ধারাবাহিক লেখনী।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
