লৌকিক দেব দেবী – ভূত বাবা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার প্রায় প্রতি জেলাতেই আছে কিছু লৌকিক দেব দেবীর অস্তিত্ব। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এক বিশিষ্ট লোকদেবতা হলেন ভূতবাবা বা ভূতেশ্বরবাবা।যিনি আসলে মহাদেবেরই
এক লৌকিক রূপ।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দুটি ভূত বাবার মন্দির বেশ প্রসিদ্ধ একটির নাম বড় কাছারি অন্যটি ছোট কাছারি নামে বিখ্যাত।
ছোট কাছারি মন্দিরটি তুলনামূলক ভাবে বয়সে
নবীন। কোনো এক ভূত বাবার ভক্ত তার মনোস্কামনা পূর্ণ হওয়ায় সম্ভবত ছোট কাছারি মন্দিরটি নির্মাণ করান।
বিষ্ণুপুরে বাখরাহাট অঞ্চলে অবস্থিত বড় কাছারি মন্দিরের ইতিহাস বেশ প্রাচীন।এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে|
কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে,জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে, সুতরাং তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|
ভূতবাবার মূর্তির সাথে পাঁচু ঠাকুরের মূর্তির কিছু মিল চোখে পড়ে। দুটিই শিবের লৌকিক রূপ হওয়ায় এই সাদৃশ্য থাকা স্বাভাবিক। সাধারণত সিংহাসনের উপর বামপদ ঝুলিয়ে বসে থাকেন ভূত বাবা। গলায় রুদ্রাক্ষ দেখা যায়। বিস্তৃত মোটা গোঁফ। দেবতার দুই হাত। এক হাতে গাঁজার কলকে। মাথায় ঝাঁকড়া চুল।সৌম্য ও শান্ত মুখ। ভূতবাবার ডানদিকে ও বামদিকে তাঁর দুই
সঙ্গী থাকেন।
ভূত বাবার ভক্তরা বিশ্বাস করেন ভূত
বাবার পূজো করলে অশুভ শক্তি নাশ হয়।
শত্রু বিজয় হয়। দুর্ভাগ্য দুর হয়। প্রতি শিব রাত্রিতে
ভূত বাবার বিশেষ পূজো হয়।
ফিরে আসবো লৌকিক দেব দেবীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। চলতে থাকবে এই
ধারাবাহিক আলোচনা। দেখতে থাকুন।
