কালী কথা – বাহান্ন হাত কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের কালীকথায় নদীয়ার বাহান্ন হাত কালীর কথা লিখবো নদীয়ার শান্তিপুরের নৃসিংহপুরে হয় এই বাহান্ন হাত কালীর পুজো।
কথিত আছে, যে ঘাট দিয়ে নিমাই গঙ্গা পার হয়েছিলেন, সেই নৃসিংহপুর কালনাঘাটেই অবস্থিত এই কালী মন্দির।
নৃসিংহপুরের দশ জন ব্যবসায়ী প্রথম স্বপ্নে আদেশ পেয়ে পৌষকালীর পুজো শুরু করেছিলেন। সব্বাই আলাদা আলাদা ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। স্বপ্নাদেশ পাওয়ায় তাঁরা মকর সংক্রান্তির পুণ্য তিথিতে ফেরিঘাটের পাশেই পূজো শুরু করেন।
একবার ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জেরে পুজো চলাকালীন মায়ের মূর্তি ভেঙে পড়েছিল। তারপর একটি তালগাছের নীচে মায়ের পুজো শুরু হয়। তখন পুজো উদ্যোগক্তারা ঠিক করেন, তাল গাছটির উচ্চতার সমান হবে মায়ের মূর্তির উচ্চতা। মেপে দেখা যায় তালগাছের উচ্চতা প্রায় ৫২ হাত। তারপর থেকে বাহান্ন হাত মূর্তি তৈরি করে পুজো হয়ে আসছে।যদিও আগে একটি ক্ষুদ্র মূর্তির পুজোই হতো।
প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির পূর্ণ্য লগ্নে শুরু হয় মাতৃ আরাধনা, টানা দশ দিন চলে পুজো।দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন নানান প্রার্থনা নিয়ে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, মা কাউকেই খালি হাতে
ফেরান না।
প্রতিমা নিরঞ্জনের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ কিছু নিয়ম। মন্দিরের মধ্যেই মূর্তিতে জল দিয়ে মিশিয়ে ফেলা হয় অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে বিসর্জন হয়না।
ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধম্যবাদ।
